নয়নজ্যোতি মুহাম্মাদ ﷺ

চতুর্থ কিস্তি

[নবুয়তের সূচনালগ্ন]

সময়টা ছিলো রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ। সোমবার। নবীজীর বয়স তখন চল্লিশ বছর একদিন। আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে জগতসমূহের জন্যে সুসংবাদ দানকারী ও ভীতিপ্রদর্শনকারী হিসেবে নিযুক্ত করলেন।

জিবরাইল আলাইহিস সালামের আগমন ঘটলো হেরা গুহায়। তাঁর সাথে রাব্বুল আলামীনের ওহী।

জিবরাইল আমীন এসেই নবীজীকে বললেন, ‘পড়ুন’। নবীজী উত্তরে বললেন, ‘আমি তো পড়তে জানি না’।

নবীজী এ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘জিবরাইল আলাইহিস সালাম আমাকে জড়িয়ে ধরলেন। আমি খুব ক্লান্তি অনুভব করলাম। এরপর আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, ‘পড়ুন’। আমি বললাম, ‘আমি তো পড়তে পারি না’।

তৃতীয়বার তিনি আমাকে সুরায়ে আলাকের পাঁচটি আয়াত তিলাওয়াত করে শোনালেন:(১)

اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ. خَلَقَ الْإِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ. الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ. عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ.

[স্বপরিবারে বন্দী নবী]

নবীজীর দাওয়াতের কাজে বিক্ষুব্ধ হয়ে মক্কাবাসী তাঁকে আবু তালিব উপত্যকায় স্বপরিবারে বয়কট করে রাখলো। প্রায় তিন বছর পর নবীজী বন্দীদশা থেকে বেড়িয়ে এলেন।(২) তাঁর বয়স তখন উনপঞ্চাশ।

[শোকের পর শোক]

বন্দীত্ব থেকে মুক্তির আটমাস একুশ দিন পর। ইন্তেকাল করলেন নবীজীর প্রিয় চাচা আবু তালিব। এর ঠিক তিনদিন পরই ইন্তেকাল করলেন প্রিয়তমা খাদিজা।

[হতাশায় সুখের ছোঁয়া]

নবীজীর পঞ্চাশ বছর তিনমাস বয়সে নাসিবিন(৩) এলাকার জিনদের একটি দল তাঁর কাছে উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করে।(৪) 

একান্ন বছর ন’মাসের সময়। যমযম এবং মাকামে ইবরাহীমের মধ্যবর্তী স্থান থেকে নবীজীকে বাইতুল মুকাদ্দাসে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে বোরাকে চড়িয়ে উর্ধ্বকাশের মেরাজে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই নামায ফরজ হয়।(৫)

তেপ্পান্ন বছর বয়সে নবীজী মক্কা থেকে মদীনায় হিজরত করেন। মক্কা থেকে রওয়ানা হওয়ার দিনটি ছিলো- রবিউল মাসের আট তারিখ, সোমবার। মদীনায় প্রবেশের দিনও ছিলো সোমবার।(৬) ইন্তেকাল পর্যন্ত লাগাতার দশ বছর নবীজী মদীনাতেই অবস্থান করেন।

টীকা:

(১) সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩।

(২) দালায়েলুন নবুওয়াহ লিল বায়হাকী।

باب دخول النبي صلى الله عليه وسلم مع من بقي من أصحابه شعب أبي طالب وما ظهر من الآيات في صحيفة المشركين التي كتبوها على بني هاشم وبني المطلب حين منعوا رسول الله صلى الله عليه وسلم ممن أراد قتله

(৩) তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তবর্তী প্রাচীন একটা এলাকা।

(৪) প্রিয় চাচা আবু তালেব ও প্রিয়তমা খাদিজার ইন্তেকালের পর নবীজী গিয়েছিলেন তায়েফে। আশা ছিলো, তাঁরা ইসলাম গ্রহণ করে ধন্য হবে। কিন্তু তারা কেউই ইসলাম গ্রহণ করতে সম্মত না হওয়ায় তাদের কাছ থেকে হতাশ হয়ে ফিরতে হলো। ফেরার সময় নাখলা নামক স্থানে নবীজী মধ্যরাতের নামাযে কুরআন তিলাওয়াত করছিলেন। সাতজন জিনের একটি দল সে তিলাওয়াত শ্রবণ করে ইসলাম গ্রহণ করে। -আস সীরাতুন নাবাবিয়্যাহ লিবনি হিশাম: ১/৩০৫।

(৫) সহীহ বুখারী, হাদীস: ৩৮৮৭।

(৬) মক্কা থেকে বের হওয়া ও মদীনায় প্রবেশের তারিখ ও পুরো সফরের ধারাবাহিকতা নিয়ে ইতিহাসবেত্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রসিদ্ধ ধারাবাহিকতা হলো- ২৭ সফর রাসূল সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা থেকে বের হয়ে গারে সাওরে আশ্রয় নেন। ১লা রবিউল আউয়াল সোমবারে সেখান থেকে মদীনার উদ্দেশে রওয়ানা করেন। ৮ই রবিউল আউয়াল সোমবার মদীনার কোবা নামক স্থানে অবস্থান যাত্রাবিরতি করেন। সেখানে চারদিন অবস্থান করে শুক্রবার দিন জুমু‘আর নামায  আদায় করে মদীনায় প্রবেশ করেন। -আর রাহীকুল মাখতুম: ১৬৩-১৭২।

পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি মন্তব্য লিখুনঃ