ধর্ষণ: কারণ ও প্রতিকার

মুফতী হাফিজুর রহমান

ভূমিকা

তিনটি অপরাধের সমন্বিত রূপ হলো ধর্ষণ। ১. বল প্রয়োগ ২. সম্ভ্রম লুণ্ঠন। ৩. ব্যভিচার। বিষয়টা চিন্তা করলে খুব সহজেই বুঝে আসে ধর্ষণ অপরাধের মাত্রাটা কতোটা গুরুতর ও ভয়াবহ।

কম বেশের ব্যবধানে ধর্ষণ ছিলো আছে এবং হয়তো থাকবে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বর্তমানে এর মাত্রাটা ভয়াবহতম রূপ ধারণ করেছে। এ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, পর্যালোচনা হচ্ছে, প্রতিবাদের জাগরণ হচ্ছে। মিছিলে মিছিলে রাজপথ মুখরিত হচ্ছে। এগুলো আপাত দৃষ্টিতে তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু অতৃপ্তির কথাটা হলো নীতি নির্ধারণী জায়গাগুলো থেকে ধর্ষণ চাষের উর্বর ক্ষেত্রগুলো নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় না। তদ্রূপ ধর্ষণ বন্ধে বাস্তবভিত্তিক ফলপ্রসূ উপায়গুলো নিয়েও কোনো উচ্চারণ শোনা যায় না।

ক্রমবর্ধমান ধর্ষণ প্রবৃদ্ধির মূলে দায়ী পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক কাঠামোগত দুর্বলতা। কাঠামোগত এ দুর্বলতা থেকেই ধর্ষণ ব্যভিচারের কাচামালগুলো প্রচণ্ড স্রোতে ঢুকে পড়েছে সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তৈরি হচ্ছে ধর্ষণবান্ধব হাজারো আবহ। সেজন্য পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত পরিবর্তনটা আবশ্যিক প্রয়োজন। সে পরিবর্তন থেকে খুব সহজেই ধর্ষণ অনুকূল সকল প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া সম্ভব হবে। এতে শুধু নারী নিগ্রহের এ কালো অধ্যায়ই নয়; সকল অঙ্গনের সকল অনাচারকেই রোধ করা সহজতর হবে।

অবকাঠামোগত সে পরিবর্তনটা আনতে হবে এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মৌলিক আদর্শিক জায়গা থেকে। আর এ দেশের মানুষের মূল আদর্শিক জায়গাটা ইসলাম বা মুসলমানিত্ব। ওখানে সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে সকল অনাচার বন্ধের বাস্তবভিত্তিক ফলপ্রসূ নীতিমালা প্রণয়ন করা আছে। মানব রচিত নীতিমালার কার্যকারিতা আর স্রষ্টা রচিত নীতিমালা আদৌ সমান ফলপ্রসূ হতে পারে না। অতএব যতক্ষণ না আমরা আমাদের জন্য প্রযোজ্য আল্লাহ প্রদত্ত নীতিমালায় ফিরে যাবে ততক্ষণ ধর্ষণসহ সকল অনাচার বন্ধের সকল আয়োজনই অরণ্যে রোদন বৈ আর কিছুই হবে না।

ধর্ষণ পরিচিতি

আভিধানিক পরিচয়

আভিধানিক অর্থে ধর্ষণ অর্থ পীড়ন, অত্যাচার, দমন, পরাজিত করণ, বলাৎকার, বলপূর্বক গ্রহণ। বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধান: ৬৪১। বস্তুত ধর্ষণের মূলানুগ অর্থ হলো দমন ও পীড়ন। এখান থেকেই দুর্ধর্ষ শব্দের সৃষ্টি। দুর্ধর্ষ মানে যাকে দমন করা বা পরাজিত করা কষ্টকর, দুর্জয়। সংসদ বাংলা অভিধান ২৯১। আরবী ভাষায় ধর্ষণের প্রতিশব্দ হলো الاغتصاب (আলইগতিসাব) বা الإكراه على الزنا  (আলইকরাহ আলায যিনা)।

পারিভাষিক পরিচয়

পরিভাষায় একজন ব্যক্তির অনুমতি ব্যতিরেকে তার সঙ্গে যৌনসঙ্গম বা কোনো ধরনের যৌন অনুপ্রবেশ ঘটানোকে ধর্ষণ বলা হয়। অল্পকথায় বিবাহ বহির্ভূত জোরপূর্বক যৌনসঙ্গমকইে ধর্ষণ বলা হয়। ব্যাপকতর এ সংজ্ঞামতে নারী পুরুষ উভয়েই ধর্ষক বা ধর্ষিত হতে পারে। সরকারী স্বাস্থ্য সংস্থা, আইন শৃঙ্খলব রক্ষাকারী সংস্থা, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইনবিদদের মাঝে ধর্ষণের সংজ্ঞা নিয়ে একাধিক মতামত রয়েছে। ধর্ষণ শব্দটির প্রতিশব্দ হিসেবে কখনো কখনো ‘যৌন আক্রমণ’, ‘অপরাধমূলক যৌন আচরণ’ ও ‘যৌন নিগ্রহ’ শব্দগুচ্ছও ব্যবহৃত হয়।

কেন হয় ধর্ষণ?

একটি ধর্ষণের পেছনে নানা ধরনের উপলক্ষ কাজ করে। সে উপলক্ষগুলোর মাঝেও রয়েছে স্তরবিন্যাস। ভূমিকাগত দিক থেকে উপলক্ষগুলো নানা পর্যায়ে বিভক্ত। অনিয়ন্ত্রিত যৌন চাহিদা থেকেই মূলত ধর্ষণের মতো অনাচার সৃষ্টি হয়। অনিয়ন্ত্রিত এ যৌন চাহিদা সৃষ্টির পেছনে রয়েছে নানা উপায় উপকরণের প্রত্যক্ষ ভূমিক। বস্তুত একজন মানুষ সত্তাগতভাবে পবিত্র চরিত্র মাধুর্য নিয়েই পৃথিবীতে আগমন করে। জন্মের পর থেকে সে এই মাধুর্য নিয়েই ধীরে ধীরে বেড়ে উঠতে চেষ্টা করে। চারিত্রিক এ বাড়ন্তি থেকেই তাবৎ অনাচার থেকে পবিত্র সত্তাকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা তৈরি হয়। কিন্তু তার কাছের পরিবেশগুলো ধীরে ধীরে তিলে তিলে গড়ে উঠা তার চরিত্র মাধুর্য ও নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতার পবিত্র দেয়ালে কুঠারাঘাত করতে থাকে। ফলে একসময় তার অনাচার নিয়ন্ত্রণ বাধে চিড় ধরে। একসময় পরিবেশের প্রচণ্ড স্রোতে নৈতিকতার সে বাধ ধসে পড়ে। রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়টিকে এভাবে ব্যক্ত করেছেন,  ‘প্রতিটি শিশু বিশুদ্ধ স্বভাব নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু তার বাবা মা তাকে ইহুদী করে তোলে, নাসারা করে তোলে বা অগ্নিপুজক হিসেবে গড়ে তোলে।’ সহীহ বুখারী, হাদীস ১৩৫৯।

এ কথা সত্য, যুগ বা সময় যতো ভালোই হোক সেখানে মন্দের উপাদান থেকেই যায়। শতভাগ মন্দ বা অনাচার মুক্ত যুগ পৃথিবীর ইতিহাসে কখনো গত হয় নি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর শাসিত যুগটিই ছিলো পৃথিবীর ইতিহাসে সবচে শ্রেষ্ঠ ও উন্নততর যুগ। কিন্তু পবিত্র সে সময়টিতেও অনাচারী মানুষের উপস্থিতি ছিলো। ঘরের বাইরে যেমন ছিলো। ঘরের ভিতরেও স্বল্প মাত্রার হলেও ছিলো।

ধর্ষণ বা এ জাতীয় অনাচারও বিচ্ছিন্নভাবে ঘটতে পারে। এ সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়ার সুযোগ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ব্যভিচারের ঘটনা যেমন ঘটেছে তেমন ধর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে। তবে তা নিতান্তই বিচ্ছিন্ন পরিসরে। এর মাত্রা কখনো যুগের শ্রেষ্ঠত্বের উপর প্রভাব ফেলার মতো ছিলো না।

আলকামা রা. কর্তৃক তাঁর পিতা ওয়ায়েল রা. থেকে বর্ণিত একটি হাদীস থেকে জানা যায়, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগে জনৈক মহিলা নামায আদায়ের উদ্দেশে বের হলে পথিমধ্যে একজন পুরুষের সাথে তার দেখা হলে সে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করে। এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধর্ষক ব্যক্তিটিকে প্রস্তারাঘাতে হত্যা করতে আদেশ করেছেন। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩৮১

সুতরাং ধর্ষণের মতো অনাচার কালে ভদ্রে বিচ্ছিন্ন পরিসরে সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু মাত্রারিক্ত ধর্ষণ অনাচার তৈরির পেছনে পারিপার্শিক কিছু বিষয়ের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। ধর্ষণ চর্চার পেছনে যেমন ব্যক্তিগত দীনহীনতা ও নিয়ন্ত্রণহীনতা দায়ী তদ্রূপ পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাও দায়ী।

পারিবারিক অবক্ষয়ের উপাদান

একটি পরিবারে প্রধানতম কর্মকর্তা বা অভিভাবক হলেন বাবা মা। পরিবারের পরিধি বিস্তৃত হলে অন্যরা থাকেন সহায়কের ভূমিকায়।  সন্তানের প্রতি একজন বাবা মার দায় অপরিসীম। সৎ ও পবিত্র মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার ক্ষেত্রে তাদের দায়টা অনেক বেশি। পারিবারিক ভিতরগত অবকাঠামোটাকে এমনভাবে বিনির্মাণ করা প্রয়োজন যাতে সন্তানের পবিত্র মনন গঠনে কোনোরূপ অন্তরায় সৃষ্টি না হয়। মুসলিম হিসেবে বাবা মাকে ছেলে সন্তানের নৈতিকতা ও চরিত্র সুষমা রক্ষার তাগিদে পারিবারিক আবহকে নিখাদ ইসলামী ধাঁচে গড়ে তুলতে হবে। বাবা মা যাপিত জীবনে রক্ষণশীল হবেন। দীন পরিপালনে পরিপূর্ণ যত্নবান হবেন। গৃহ সজ্জায় সব রকমের অন্যায় উপাদানকে পরিহার করে চলবেন। অশ্লীলতার তাবৎ মাধ্যম থেকে ঘরের শান্তিময় পরিবেশকে পবিত্র রাখবেন। পারিবারিক এমন পবিত্র পরিবেশ যেমন সন্তান সন্তুতির প্রাপ্য অধিকার তদ্রূপ এটা মাতা পিতার প্রতি আল্লাহ প্রদত্ত অবশ্য পালনীয় গুরু দায়িত্বও বটে। মুসলিম পারিবারিক পবিত্র এ অবকাঠামো যদি নষ্ট করে ফেলা হয় তবে সে পরিবারে বেড়ে উঠা সন্তানটির মাঝে ধর্ষণসহ নানা অনাচারের বীজ বপিত হবে। একসময় তা পত্রপল্লবে সুসমিত হয়ে চারপাশকে কলঙ্কিত করবে। বর্তমান পারিবারিক পবিত্র অবকাঠামোকে এভাবেই পরিকল্পিতভাবে ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। ফলে সেখান থেকে তৈরি হচ্ছে ধর্ষক সন্তান ও ধর্ষিতা মেয়ে।

সামাজিক অবক্ষয়ের উপাদান

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র একটি অপরটির সাথে ওৎপ্রোতভাবে জড়িত। ব্যক্তি থেকে যেমন অবক্ষয় তৈরি হয়ে পরিবার, সমাজ ছাপিয়ে রাষ্ট্র পর্যন্ত সংক্রমিত হয় তদ্রূপ রাষ্ট্র থেকে অবক্ষয় তৈরি হয়ে সমাজ, পরিবার ছাপিয়ে ব্যক্তিতে সংক্রমিত হয়। একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কিছু দায়িত্ব যেমন রয়েছে তদ্রূপ তার সামাজিক কিছু দায়িত্বও রয়েছে। এভাবে একটি সমাজের প্রতিটি মানুষের উপরই সামাজিক কিছু দায়িত্ব অর্পিত হয়। বিশেষত সমাজের যে মানুষগুলো নানা দিক থেকে সম্মান ও মর্যাদার আসনে সমাসীন তাদের দায়িত্বের পরিধিটা তুলনামূলক বেশি। একজন মুসলিম হিসেবে সামাজিক এ দায়বদ্ধতার ধরণ ও ব্যকরণ সবই নির্ণিত হবে পবিত্র কুরআন সুন্নাহর আশ্রয়ে। কথিত সমাজ ব্যবস্থায় আদৌ সামাজিক অবক্ষয় রোধ হয় না ও হবে না।  সৃষ্টির স্বার্থে সৃষ্টা প্রদত্ত নীতি বিধান আর সৃষ্টি রচিত নীতি বিধান- এ দুটির মাঝে কোনটি শতভাগ ফলপ্রসূ? বিবেক বুদ্ধি পরিশীলিত ও পরিশুদ্ধ হলে এ প্রশ্নের উত্তর সন্ধানে খুব বেশি গলদঘর্ম হওয়ার কথা নয়। এ দায়িত্ব পরিপালনে অবহেলা কিংবা অনাগ্রহ তৈরি হলে একটি সামাজিক অবকাঠামোতে অবক্ষয়ের ধস নামে। আজকের সমাজ কাঠামো তার উৎকৃষ্ট উপমা। পরিবারের মানুষগুলো যেমন কুরআনিক পরিবার গঠনে দায়মুক্ত তদ্রূপ সমাজের মানুষগুলোও কুরআনিক সমাজ গঠনে দায়মুক্ত ও উদাসীন। আর রাষ্ট্র নানা উপায় উপকরণে এ দায়মুক্তি ও উদাসীনতার রসদপত্রের যোগান দিচ্ছে। ফলে ধর্ষণসহ নানা মাত্রিক অবক্ষয়ের কালো থেকে সমাজ বেরিয়ে আসতে পারছে না। ক্রমবর্ধমান হারে বেড়েই চলছে সামাজিক অনাচার।

রাষ্ট্রীয় অবক্ষয়ের উপাদান

রাষ্ট্র ব্যবস্থা ইসলামী শরীয়তে বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থাপনা। এর উপর ইসলামের অসংখ্য আবশ্যকীয় নীতি বিধান নির্ভরশীল। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান কার্যকর করণে ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থা অত্যাবশ্যকীয় একটি প্রক্রিয়া। আল্লাহর ইবাদাত ও আনুগত্যের অনুকূল ক্ষেত্র তৈরির পেছনের ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সারকথা সুবিচার, ব্যক্তিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রিক ইবাদাহ পরিপালন ও আল্লাহর আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টির অধিকার নিশ্চিত করণে রাষ্ট্র ব্যবস্থা একটি অত্যাবশ্যকীয় মাধ্যম। একথা সত্য, রাষ্ট্র ব্যবস্থা আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নের একটি আবশ্যকীয় মাধ্যম বা উপায়; উপেয় বা চরম উদ্দেশ্য নয়। তবে উপায় বা মাধ্যম হলেও সেটাকে আল্লাহর বিধান থেকে ছোট বা গুরুত্বহীন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। তাহারাত বা ওযু উপেয় বা চরম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য না হলেও একে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ চরম উদ্দেশ্য নামাজের বিধান কার্যকর করার একমাত্র ফাউণ্ডেশন হলো তাহারাত বা ওযু। সুতরাং উপায় হলেও এর গুরুত্ব কোনো অংশে কম নয়। বিধানগত দিক থেকে উপায় এবং উপেয় উভয়টিই সমান গুরুত্ব রাখে। মানব সৃষ্টির পেছনেও রয়েছে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠার এক পরম লক্ষ্য। আল্লাহর ইচ্ছা হলো পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধিরূপে নতুন এক জীব সৃষ্টি করবেন। আদম আ. এর সৃষ্টিতে আল্লাহ তাআলার সে ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আদম আ. পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠার সর্বোৎকৃষ্ট জীব। খলিফা বা প্রতিনিধি তাকেই বলা হয় যে মালিকের অধীনতা স্বীকার করে তাঁর দেয়া ক্ষমতা ও বিধান প্রয়োগ করে। আদম আ.কে সৃষ্টির প্রাক্কালে ফেরেশতারা মৃদু অনুযোগ করে বলেছিলো, আমরাই তো আপনার প্রশংসামূলক তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। সূরা বাকারা, আয়াত ৩০। আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে নিজস্ব কোনো ক্ষমতা দেন নি। আল্লাহর কোনো নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করার ইচ্ছা বা ক্ষমতা তাদের নেই। তাদের কাজের কোনো ত্রুটিতে অসন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহ নতুন সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন কিনা এ বিষয়ে ফেরেশতাদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছিলো। আল্লাহ ফেরেশতাদের সংশয়প্রসূত অনুযোগের জবাবে বলেছিলেন, নিশ্চয় আমি যা জানি তুমি তা জানো না। আল্লাহ ফেরেশতাদের বোঝাতে   চেয়েছিলেন, যে উদ্দেশে তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে সে উদ্দেশ্যে নয়; বরং অন্য উদ্দেশ্যে মানব সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আর তা হলো মানুষ ব্যক্তিগত জীবনে আল্লাহর বিধান পালন করবে এবং সাথে সাথে আল্লাহর সে বিধানবলীকে সমাজে বাস্তবায়ন করবে।

সারকথা আল্লাহর জমিনে আল্লাহর খেলাফত প্রতিষ্ঠাও মানব সৃষ্টির অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। সবচেয়ে বড় কথা হলো একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মাঝে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা এবং শান্তিময় শাসন প্রতিষ্ঠা করা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সবিশেষ নির্দেশনা। সুতরাং এ নির্দেশনা পালন করা প্রতিটি মুসলিমের জন্য আবশ্যক।

হাদীসেও কুরআনের বিধান অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার ব্যাপারে নির্দেশনা এসেছে। এবং কুরআন ভিন্ন আইনে রাষ্ট্র চালালে তার পরিণতি কি হবে তাও আলোচিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব অনুসারে মীমাংসা করবে না এবং আল্লাহর অবতীর্ণকৃত বিধানকে গ্রহণ করবে না তখন তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ-বিগ্রহ সৃষ্টি করে দিবেন। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৪০১৯, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৮৬২৩

বস্তুত রাষ্ট্রীয়ভাবে কুরআনিক আইন বলবত না থাকাটা রাষ্ট্রীয় অবক্ষয়ের মূল চাবিকাঠি। মানব রচিত আইনগুলোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যও ভালো থাকে। মানব রচিত আইন দ্বারা যারা রাষ্ট্রকে পরিচালনা করেন তারাও চান রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক সুখ, শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে বসবাস করুক। কিন্তু মুসলিম শব্দের ধারক এ মানুষগুলো আদৌ বুঝতে চায় না যে মানব রচিত আইন হলো সৃষ্টির রচনা করা আইন আর কুরআনিক আইন হলো স্রষ্টার রচনা করা আইন। কোন আইনটি বেশি ফলপ্রসূ? সৃষ্টির না স্রষ্টার? সরল উত্তর হলো আল্লাহ মুসলমানের জন্য যে আইন রচনা করেছেন সে আইনই তাদের জন্য কল্যাণকর। অন্য কোনো আইন তাদের জন্য আদৌ সুফল বয়ে আনবে না ও আনতে পারে না। সাহজ এ ব্যকরণটা উপর তলার মানুষগুলো উপলব্ধি করতে পারেন না বা উপলব্ধি করতে চান না।

একটি ধর্ষণের পেছনে অসংখ্য উপলক্ষ ক্রিয়াশীল থাকে। এর প্রায় সবগুলোই প্রচলিত রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা থেকে প্রকাশ পেয়ে থাকে। ধর্ষণের পেছনে ব্যক্তির দায়বদ্ধতা তো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু ধর্ষণের মতো ঘৃণিত কাজের পথ করে দেয়ার পেছনে সমাজ ব্যবস্থার পথ ছাপিয়ে রাষ্ট্র ব্যবস্থার অনেক বড় ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং ধর্ষণের মতো মরণ ব্যধি থেকে সমাজকে মুক্ত করতে হলে রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন। নতুবা এ ব্যধি থেকে নিরাময় সম্ভব নয়।

ধর্ষণ ঘটর পেছনে রাষ্ট্রীয় উপসর্গগুলোর পরিসংখ্যান

১। ব্যভিচারে উন্মুক্ত অনুমোদন

ধর্ষণের প্রধান ও প্রতিপাদ্য অনুষঙ্গই হলো ব্যভিচার। যিনা-ব্যভিচার সমাজ জীবনে এক জঘন্যতম কদর্য পাপাচার। এটা মানুষকে পশুতে পরিণত করে দেয়। এটা এতোটাই যঘন্য যে এর আশে পাশে যেতেও নিষেধ করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, অবৈধ যৌন সংযোগের ধারে কাছেও যেয়ো না। কারণ এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্টতর আচরণ। সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত ৩২।

আল্লাহ তাআলা বলেন, তারা আল্লাহর সাথে অন্য কোনো মাবুদকে ডাকে না, শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতীত কাউকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। আর যে ব্যক্তি এসকল কাজ করে সে শাস্তি ভোগ করবে। কিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ করা হবে। এবং এ শাস্তি লাঞ্ছিত অবস্থায় সে অনন্তকাল ভোগ করতে থাকবে। সূরা ফুরকান, আয়াত ৬

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোনো ব্যভিচারী ব্যভিচার করার সময় মুমিন থাকে না। সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩১৫

উসমান বিন আবুল আস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অর্ধ রজনীতে আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়। … এ সময় মুসলিম যে দুআই করবে তার সে দুআ আল্লাহ কবুল করবেন। তবে ব্যভিচারকে পেশা হিসেবে গ্রহণকারিণী নারীর দুআ আল্লাহ কবুল করবেন না। আল ম,’জামুল কাবীর লিততাবারানী, হাদীস ৪৩৯১

শরীয়তের এ সুস্পষ্ট নীতির বিপরীতে প্রচলিত আইনে ব্যভিচার সিদ্ধ ও অনুমোদিত। যে কোনো নর নারী পারস্পরিক সম্মতিক্রমে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারে। এতে রাষ্ট্রের কোনো দায়বদ্ধতা বা কিছু বলার নেই। আইনত ব্যভিচারকে অনুমোদন দেয়া মানে ধর্ষণের পথকে মসৃণ করে দেয়া। কারণ একজন ধর্ষক কী করে? সে বল প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যভিচার করে। বল প্রয়োগ করা বা ধস্তাধস্তি করা তো আহামরি রকমের অপরাধ নয়। বল প্রয়োগ শেষে যেটা করেছে সেটা তো অনুমোদিত। ব্যভিচারে তো সম্মানহানি হওয়ার কথা নয়। যেটা অনুমোদিত তাতে সম্মানহানির কি থাকতে পারে?  স্বেচ্চা ব্যভিচারে যদি কারো সম্মানহানি না হয় তবে বুঝতে হবে মূলত এতে সম্মানহানির কিছু নেই। জোরপূর্ব ব্যভিচার করা হলে সেখানে শুধু বল প্রয়োগের দণ্ডটা কার্যকর হতে পারে। একটা ছেলে যখন স্বেচ্ছাগ্রহী একটি মেয়ের সাথে মিলিত হওয়ার স্বাদ পেয়ে যাবে তখন সে কদিন পর তার লালসা পূরণে হণ্যে হয়ে যাবে। তখন কেউ তার ডাকে সাড়া না দিলে সে তো কারো উপর হামলে পড়বেই। ঘর উন্মুক্ত রেখে সম্পদের লালসা তৈরি করে দিয়ে সম্পদ চুরির যাবতীয় দায় চোরের উপর চাপিয়ে দিলে তো হবে না। একজন ভালো মানুষকে চোর বানানোর দায় গৃহকর্তাকে অবশ্যই বহন করতে হবে। ব্যভিচার তো হলো ধর্ষণের প্রধান প্রবেশপথ। প্রবেশপথ বন্ধ না করে ঘরে প্রবেশ ঠেকানো কি করে সম্ভব? এতো বৃক্ষ রোপন করে বৃক্ষকে ফল দিতে নিষেধ করার নামান্তর। ধর্ষণ বিষয়ে রাষ্ট্রের নতুন আইন দেখে মনে হচ্ছে এখানে শুধুই বল প্রয়োগটাই প্রধান অপরাধ নয়। মূল অপরাধ হচ্ছে ব্যভিচার। সুতরাং ব্যভিচার বন্ধে আইন প্রণনয়ন করা হোক। তবে এমনিই ধর্ষণ বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ ধর্ষণের মূল আগ্রহের জায়গাটাই তো হলো ব্যাভিচার। যে কোনো উপায়ে আগ্রহের এ জায়গাটাতে যাওয়ার প্রধান ও চোরাপথ সব বন্ধ করুন। তাহলে ধর্ষণ চর্চার লাগাম হাতের নাগালে চলে আসবে।

২। পর্দা বিধান লঙ্ঘন

মুসলিম আইনে প্রয়োজনে মুসলিম নারীদের আবৃত হয়ে চলাচল করার কথা এসেছে। বিশেষ প্রয়োজন না হলে গৃহাভ্যন্তরেই তাদের অবস্থান করতে বলা হয়েছে। এ বিধান যেমন ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিপালন করতে বলা হয়েছে তদ্রূপ রাষ্ট্রীয়ভাবেও এ বিধান কার্যকর করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কারণ পর্দা বিধান লঙ্ঘন করে চলাচল করা মুনকার পর্যায়ের অনাচার। নাহি আনিল মুনকার শিরোনামে এ অনাচারের পথ রুদ্ধ করা মুসলিম রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের গুরু দায়িত্ব। এ দায়িত্বে অবহেলা হলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে বাধ্য। রাষ্ট্রীয়ভাবে পর্দা বিধান লঙ্ঘনসহ নারীদের যেখানে সেখানে যেভাবে সেভাবে চলার উন্মুক্ত অনুমতি প্রদান মানে ধর্ষণের পথ অবমুক্ত করণ। যুবক শ্রেণী যখন পর্দাবিহীন নারীদের অবলোকন করবে তখন তাদের মাঝে একধরনের ভালোলাগা তৈরি হবে। সেখান থেকে কাছাকাছি হওয়ার আগ্রহ ছাপিয়ে ব্যাপারটি ধর্ষণ পর্যন্ত গড়িয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা তৈরি হয়। নারী চেহারার সৌন্দর্যে মোহিত হয়ে বাসনা পূরণের আগ্রহ প্রকাশ এবং সাড়া না পেয়ে ঝাপিয়ে পড়ার মতো ঘটনা অনেক ঘটছে। প্রায় প্রতিটি ধর্ষণের পেছনেই চেহারা দর্শনের ব্যাপারটি মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করে থাকে। সেখান থেকেই ব্যাপারটি ধর্ষণ পর্যন্ত গড়ায়। জরিপ করলে দেখা যাবে অধিকাংশ রেইপ কেইস পর্দা বিধান লঙ্ঘন থেকেই তৈরি হয়েছে। নারী দর্শন না পেলে নরপশুটার মাঝে কাম ভাব তৈরি হওয়ার তেমন সুযোগ তৈরি হতো না। ধর্ষণমুক্তির রক্ষাকবচ এ পর্দা বিধান পরিপালনে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কোনো আগ্রহ নেই। বরং রাষ্ট্রের আস্কারা পেয়ে একটি শ্রেণী পর্দা বিধান নিয়ে নানা রকমের বিদ্রূপে মেতে উঠে। অথচ পর্দা বিধানের ব্যাপারে বিদ্রূপাত্মক একটি আচরণই ঈমান হরণের যথেষ্ট। একজন মুসলিম নারী পুরুষের অশ্লীল দৃষ্টি থেকে নিজেকে নিরাপদে রাখার স্বার্থে বোরকাবৃত হয়ে চলেন। আর একটি শ্রেণী তাকে উপহাস করে। তুষারপাত থেকে রক্ষা পেতে ওভার কোট বা মাঙ্কি ক্যাপ পরিধান করলে তো কেউ উপহাস করে না। পর্বত চূড়ায় উঠতে কিংবা সমুদ্র তলে যেতে জীবন রক্ষাকারী আপাদ মস্তকাবৃত পোষাকে নিজেকে ঢেকে নেয়া হয়া হলে তো কেউ উপহাস করে না। করোনা কালে করোনা থেকে নিজেকে সেভ করার জন্য মাক্স পিপিইসহ কতো কিছুই তো পরিধান করা হলো।  তা নিয়ে তো কেউ হাসি তামাশা করে নি। তারা যেমন ঠাণ্ডাসহ ক্ষতিকর নানা উপাদান থেকে রক্ষা পেতে এগুলো পরেন তদ্রূপ একজন সুশীল নারী বখাটে পুরুষের লোলুপ দৃষ্টি থেকে আড়াল করার স্বার্থে ও আল্লাহর বিধান পালনের পবিত্র সদিচ্ছায় নিজের আপাদ মস্তক ঢেকে রাখেন। এ কারণে তার ব্যাপারে কথা উঠবে কেন?

৩। উন্মুক্ত পোষাক কালচার

কে কেমন ও কতটুকু পোষাক পরবে সে ব্যাপারে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নারীদেরকে উন্মুক্ত স্বাধীনতা দেয়া আছে। পোষাক কোনো আলোচনার বিষয় নয়। এটা যার যার রুচির ব্যাপার। যার রুচিতে যেমন ও যতোটুকু পোষাক ধরে সে তেমন ও ততোটুকু পোষাক পরবে। এক্ষেত্রে কারো কিছু বলার নেই এবং বলার অধিকারও নেই। যেহেতু রাষ্ট্রীয়ভাবেই উন্মুক্ত পোষাকাধিকার দেয়া হয়েছে তাই নারী সমাজ তাদের দেহে সে অধিকারের সবটুকু প্রয়োগ করছে। কোন নারী তার দেহের কতটুকু আবৃত করবে কতটুকু করবে না সেটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার। এখানে নাক গালানোর করো কোনো অধিকার নেই। নারী উন্মুক্ত পোষাকাধিকার পেয়ে এমন করে পোষাক পড়ছে যে তার দৈহিক অবকাঠামোর বিকাশ ঘটছে। অনেকে তো পশ্চিমা কালচারের সবটুকু গ্রহণ করে স্বল্প বসনে প্রায় পূর্ণ দেহকেই উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। উন্মুক্ত এ নারী দেহের পরিবেশনায় কি যুবকের যুব মানসিকতার উন্মেষ ঘটতে পারে না? এর পথ ধরে কি ধর্ষণ পর্যন্ত ব্যাপারটি গড়িয়ে যেতে পারে না?

আজ ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ব্যাপারে পোশাকের কথা উঠালেই নারীবাদীরা চটে যাচ্ছেন। তেলে বেগুনে জ্বলে উঠছেন। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানিতে যদি নারী পোষাকের কোনো দায় না থাকে তবে ওয়েব সিরিজ নিয়ে কথা উঠেছে কেন? কেন এ বিষয়ে তীব প্রতিবাদ জানিয়েছেন চলচ্চিত্র জগতের শিল্পী, নির্মাত ও পরিচালকগণ? কেন সেখানে আদালতের হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে? কেন তারা বলছে, ওয়েব সিরিজে যা দেখানো হচ্ছে দেশ এটা দেখার জন্য প্রস্তুত নয়? কেন অভিনেতা-নির্মাতারা বলছেন সিরিজগুলোতে অতিমাত্রায় যৌনতা ও অশ্লীলতার ব্যবহার হয়েছে? এসব যৌনতা ও অশ্লীলতার কাচামাল তো অশালীন পোষাক কালচার থেকেই তৈরি হয়েছে। অশ্লীলতা কি শুধু বক্তব্য ও ডায়ালগের মাঝেই সীমাবদ্ধ? নারী দেহের সাথে কি অশ্লীলতার কোনো সম্পর্ক নেই? যদি নারী দেহের সাথে অশ্লীলতার কোনো সম্পর্ক থেকে থাকে তবে সে অশ্লীলতার মাধ্যম কি? সে মাধ্যম কি পোষাক নয়?

আমরা বলছি না, একমাত্র আপত্তিকর নারী পোষাকই ধর্ষণ ও যৌন নিগ্রহের জন্য দায়ী। একটি ধর্ষণ চরিত্র তৈরির পেছনে অনেক কিছুর ভূমিকা থাকে। নারীর আপত্তিকর পোষাকও যৌন অপরাধের পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করে। এ কথাকে অস্বীকার করার কোনোই সুযোগ নেই। বর্তমানে ক্রমবর্ধমান হারে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়ন বৃদ্ধির পেছনে পুরুষে অন্যায় মানসিকতার পাশাপাশি উগ্র বেশ-ভূষা ও নগ্ন চাল চলনও বহুলাংশে দায়ী। ধর্ষণ বিষয়ক সকল আলোচনা-পর্যালোচনায় এ বিষয়টিকে খুব যত্নের সাথে এড়িয়ে যাওয়া হয়। নারীর প্রতি কামুক হাত বাড়ানো যেমন পুরুষের অন্যায় তদ্রূপ নৃত্যময় অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দ্বারা পুরুষকে প্রলুব্ধ করাও নারীর অন্যায়। সুতরাং এসব ধর্ষণ অনাচারের পেছনে নারীরও দায় আছে। এ দায়কে এড়িয়ে যাবার কোনোই সুযোগ নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যখন কোনো জাতির মাঝে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে, তখন সেখানে মহামারি দেখা দিবে। তাছাড়া এমন সব ব্যধি ছড়িয়ে পড়বে যা পূর্বেকার লোকদের মাঝে কখনো দেখা যায় নি। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৪০১৯, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস ৮৬২৩

৪। আপত্তিকর নাটক সিনেমার অনুমোদন

নাটক সিনেমাকে দেশীয়ভাবে একটি নামী দামী শিল্পে রূপ দেয়া হয়েছে। এসব নাটক সিনেমায় কি প্রদর্শিত হচ্ছে? ওখান থেকে যুব সমাজ কি দীক্ষা গ্রহণ করছে? ওখান থেকে যুব সমাজ শিখছে, একজন নারীকে তুলে নিয়ে শ্লীলতাহানি করা যায়, একজন নারীর সাথে তার পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও প্রেম প্রীতির নামে নষ্টামো করা যায়, নারী পুরুষে একাকার হয়ে উন্মত্ত নাচ গানে অংশ নেয়া যায়। এতে ফল কি হচ্ছে? যুবক যুবতীদের মধ্যকার সুপ্ত কামভাব জাগ্রত হচ্ছে। তারা তাদের কামুক লালসাকে চরিতার্থ করার জন্য সুযোগ খুঁজছে। ছল চাতুরিসহ নানারকম উপায় অবলম্বনে মত্ত হচ্ছে। ভালোয় ভালোয় নারী সম্মত হলে তো ব্যভিচার পর্যন্ত গিয়েই থেমে যাচ্ছে। সম্মত না হলে ধর্ষণ পর্যন্ত অগ্রসর হতেও সে সামান্য দ্বিধা করছে না। ধর্ষণের চূড়ান্ত পর্ব পর্যন্ত অগ্রসর হতে রাষ্ট্র তাকে সাপোর্ট করেছে। রাষ্ট্রের সাথে সমাজ ও পরিবারও তাকে সহযোগিতা করেছে। ধর্ষককে আজ ফাসির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হচ্ছে। অথচ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রই তাকে নানাভাবে উস্কে দিয়ে ধর্ষকের স্তরে উপণীত করেছে। ধর্ষকের ফাসি হলেও পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে কিছুই বলা হচ্ছে না।

৫। আপত্তিকর বিজ্ঞাপন চিত্র

বিজ্ঞাপন চিত্রে যুব সমাজকে শেখানো হচ্ছে, নারী ভোগ্যপণ্য। নারী শুধু ভোগেরই বস্তু। একে দিয়ে সমাজের আর কিছু হয় না। একে দিয়ে অর্থ উপার্জন করা যায় এবং দৈহিকভাবে একে ভোগ করা যায়। এই হলো নারীর মূল প্রতিপাদ্য। একটি যুবক চব্বিশ ঘণ্টা বিভিন্ন বিজ্ঞাপন চিত্র থেকে এই শিক্ষাই পাচ্ছে। ফলে সে নারী দেখলেই ভোগের দৃষ্টিতে তাকাচ্ছে। নারী দেখলেই ভোগ করতে উন্মত্ত হয়ে উঠছে। তাকে যতই বলা হয়, নারীকে মা বোনের মতো করে দেখতে হবে, কিন্তু এসব মর্মবাণীকে তার কাছে মিথ্যা ও ফিঁকে মনে হচ্ছে। এসব আপত্তিকর নারী সর্বস্ব বিজ্ঞাপনের অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্র একটি যুবককে ধর্ষণের পথে অগ্রসর হবার পথ করে দিচ্ছে।

৬। ভিনদেশী চ্যানেলের অবাধ প্রবাহ

দেশীয় চ্যানেলেও অশ্লীলতা আছে। এ অশ্লীলতাও যুব সমাজকে ধর্ষণের পথ দেখায়। এখানেও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা আছে। কিন্তু দেশীয় চ্যানেলগুলো মুসলমানদের সামগ্রিক রক্ষণশীলতা বিবেচনায় কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রিত হতে চেষ্টা করছে। তারাও অশ্লীলতাকে আরো সমৃদ্ধ করে তুলতে সুযোগের অপেক্ষায় আছে। কিন্তু ভিনদেশী চ্যানেলগুলোতে এ জাতীয় নিয়ন্ত্রণ রেখা নেই। সেখানে চলে বাধভাঙ্গা জোয়ার। রাষ্ট্র ভিনদেশী অশ্লীল চ্যানেলগুলোকে উন্মুক্ত অনুমোদন দিয়ে রেখেছে। রাষ্ট্র এটাকে ভাবছে নাগরিক সুবিধা। কিন্তু এ ‘নাগরিক সুবিধা’ই যে হাজারো ধর্ষণজনিত অসুবিধার জন্ম দিচ্ছে তা তলিয়ে দেখছে না।

৭। অনলাইন ভিত্তিক পর্ণ সাইটের উন্মুক্ত প্রবাহ

রাষ্ট্র নাগরিকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছে অনলাইন সুবিধা। আপামর জনতার হাতে হাতে স্মার্ট ফোন। রাষ্ট্র কর্তৃক নেট সুবিধা পেয়ে জনগণ অনায়াসে নেটদুনিয়ার আনাচে কানাচে প্রবেশ করতে পারছে। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ মানুষের একটি স্বভাবজাত ধর্ম। বৈধ ও বিধিত জিনিসের প্রতি মানুষ তেমন একটা আগ্রহী নয়। নীল ছবি ও ছায়াছবি দেখতে মানুষকে আগে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হতো। এখন আর সে কষ্টের দিন নেই। এখন হাতে হাতে চলে এসেছে নীল ছবির সিনেমা হল। যখন তখন আঙ্গুলের সামান্য স্পর্শেই ঢুকে যেতে পারছে অশ্লীলতার নিষিদ্ধ পল্লীতে। এতে করে যুবশ্রেণী উচ্চ মাত্রার কামভাব ধারণ করে অহর্ণিশ পথ চলছে। কামভাব চরিতার্থ করার জন্য শিকারি অনুসন্ধান করে ফিরছে। ব্যাস, সে সুযোগ পেয়ে কামুক লালসাকে পূর্ণ করে ধর্ষণের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে দিচ্ছে।

৮। ধর্মীয় মূল্যবোধ সৃষ্টির প্রতি অনাগ্রহ

জনগণকে নৈতিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ একটা দায়িত্ব। কিসে নাগরিকদের চরিত্র নষ্ট হয়? কিসে নাগরিকদের চরিত্রের সংশোধন হয়? কোন প্রক্রিয়ায় জনগণের নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত হয় এসব বিষয়ে দৃষ্টি দেয়া রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব। কিন্তু রাষ্ট্র এ ব্যাপারে নিতান্তই উদাসীন। এ ব্যাপারে কার্যকরি কোনো উদ্যোগ নেই বললেই চলে। যা আছে তা নৈতিক মূল্যবোধ ধ্বংসের উপকরণ দিয়ে তলিয়ে দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রকে ধর্ষণ বন্ধে ধর্ষণ সৃষ্টির যাবতীয় ছিদ্রপথ বন্ধ করার সাথে সাথে জনগণের মাঝে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার দায়িত্বটাও নিতে হবে। নতুবা ধর্ষণের মতো অনাচারগুলো বন্ধ হবে বলে আশা করা যায় না।

৯। পাঠ্যবইয়ে অনৈতিক শিক্ষা

একটি জাতির সামগ্রিক উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে শিক্ষার উপর। কিন্তু শিক্ষা তো একটি ব্যাপক বিস্তৃত অনির্দিষ্ট শব্দ। আভিধানিক অর্থে চুরির কলা কৌশল রপ্ত করাও শিক্ষা। পণ্যে ভেজাল দেয়ার নিয়ম পদ্ধতি আত্মস্থ করাও শিক্ষা। এভাবে প্রতিটি অনাচারের নিয়ম নীতি রপ্ত করাকেও আভিধানিক অর্থে শিক্ষা বলা যেতে পারে। তবে মানুষ সাধারণত ভালো কিছু শেখাকে শিক্ষা বলে জানে। মন্দ কিছু শেখাকে মানুষ আদৗ শিক্ষা বলে জ্ঞান করে না।

সাধারণ পাঠ্যবইগুলোতে নানা শিরোনামে এমন অনেক কিছুই শেখানো হচ্ছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদেরকে যেগুলোকে আর যাই হোক শিক্ষা বলা যায় না। সাহিত্যের নানা গল্প-কবিতায় নারীকে ধর্ষণের সামগ্রী হিসেবে তুলে ধরছেন কবি সাহিত্যিকরা। এবং সেগুলোকে রাষ্ট্র বেশ উচ্ছ্বাসের সাথে পাঠ্যভুক্ত করে ছেলে মেয়েদেরকে গেলাচ্ছে।

ক্লাস এইটে ‘নিজেকে জানো’ নামে একটি বই ছিলো। এখান থেকে ইয়াং জেনারেশন জানতে পেরেছে, পরস্পরের সম্মতিতে যৌন অনুভূতি প্রকাশ দোষণীয় নয়। ক্লাস নাইনে ‘হাজার বছর ধরে’নামে একটি উপন্যাস রয়েছে। একটা তের চৌদ্দ বছরের ছেলে যখন হাজার বছর ধরে উপন্যাসে টুনি মন্টুর প্রেমকাহিনি পড়ে তখন সে অবচেতন মনেই নিজেকে মন্টু আর মেয়েকে টুনি ভাবতে থাকে। এ ভাবনাটা নিউরোলজিক্যাল তথা স্নায়ুবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে শুধু স্বাভাবিকই নয়; বরং না ভাবাটাই অস্বাভাবিক। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ধর্ষণের উপাদানগুলো আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কিশোর বয়সেই ছেলে মেয়েদের মাথায় ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

১০। পশ্চিমা কালচারের উচ্ছল স্রোত

মুসলমানরাই যেহেতু এ দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ সুতরাং এদেশের সংস্কৃতির সামগ্রিক ভীতটা তাদেরকে কেন্দ্র করেই রচিত হবে। অন্য ধর্মের লোকও এখানে আছে। তবে তারা সংখ্যায় অল্প হওয়ায় তাদের সংস্কৃতিটা রাষ্ট্রীয় সামগ্রিকতা পাবে না। তারা তাদের মতো করে ঘরোয়াভাবে তাদের সংস্কৃতিকে লালন করবে। একথাগুলো একরৈখিক নয়। প্রচলিত গণতান্ত্রিক দর্শনও এ তত্ত্বকে সাপোর্ট করে। সামগ্রিক বিবেচনায় ভোট যাদের বেশি হয় ক্ষমতার দণ্ডটা তারাই হাতে পায়। এ তত্ত্বের ভিত্তিতেই আমাদের সংস্কৃতির ভিত রচিত হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। এ দেশে সংস্কৃতি একটা জগাখিচুড়ি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেন এদেশে সংস্কৃতির কোনো বাবা মা নেই। যাচ্ছে তাই সংস্কৃতি হয়ে যাচ্ছে। সংস্কৃতির কোনো সীমা রেখা নেই। কোথাকার কে কি করছে তাই এ দেশরে সংস্কৃতি হয়ে যাচ্ছে। নিজেদের সংস্কৃতির কোনো স্বকীয়তা নেই। নেই তার কোনো সীমা পরিসীমা। ফলে ভিনদেশী সংস্কৃতি গ্রহণে প্রচণ্ড রকমের আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। পশ্চিমা কালচারের মূল ভিতটাই হলো অশ্লীলতা ও নগ্নতা। ওখানে নগ্নতা বিনে সংস্কৃতির কোনো অস্তিত্ব নেই। ওসব নগ্নতা সর্বস্ব সংস্কৃতির প্রবল স্রোত আমাদের দেশের দিকে ধেয়ে আসছে। এবং তারাও তাদের নগ্ন সংস্কৃতিকে এ দেশে বাজারজাত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করে যাচ্ছে। আর আমরা তাদের সে নোংরা সংস্কৃতি গ্রহণে হামলে পড়ছি। ধর্ষণের মূল চাবিকাঠিই তো হলো অশ্লীলতা ও নগ্নতা সর্বস্ব এসব পশ্চিমা কালচার। পশ্চিমা এসব নগ্ন কালচারের পথ ধরেই যুব সমাজের মাঝে ধর্ষণেচ্ছা তৈরি হয়। সময় সুযোগে সে ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটে। ভিনদেশী কালচারের এ উচ্ছ্বল স্রোত বন্ধ করা নাগরিকদের স্বার্থেই রাষ্ট্রের জন্য আবশ্যক।

স্নায়ুবিজ্ঞানে ধর্ষণ চর্চার কার্যকারণ ও প্রতিবিধান

মনোবিজ্ঞান মতে মানুষের মন মূলত তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। ১। ইড ২। ইগো ৩। সুপার ইগো।

ইড

ইড হলো মানুষের জৈবিক চাহিদা। মানব মনের স্বভাবজাত চাহিদা পূরণ করে এ ইড। এটাকে নফসে আম্মারা, খাহেশাতে নফসানী বা কুপ্রবৃত্তির সাথে তুলনা করা যেতে পারে। অন্য শব্দে মন যা চায় তাই করা-ই হলো ইডের কাজ। ইডের পুরোটাই লোভ লালসা ও কাম চিন্তায় পরিপূর্ণ। এক কথায় ইড হলো আমাদের ভিতরের পশুত্ব।

সুপার ইগো

সুপার ইগো হচ্ছে মানুষের বিবেক। ইড যখন জৈবিক কমনা পূরণে মানুষকে উদ্দীপ্ত করে তখন সুপার ইগো বাধা দেয়। সুপার ইগো সবসময় মানুষকে মানবিক দুর্বলতার ঊর্ধে উঠে ভালো কাজ করতে উৎসাহিত করে। সুপার ইগোর এ বাধা দান ক্ষমতার মাত্রা নির্ভর করে ব্যক্তির নৈতিক, পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক এবং সামাজিক শিক্ষা ও মূল্যবোধের উপর। সুপার ইগোকে নফসে মুতমায়িন্নার সাথে তুলনা করা যেতে পারে।

ইগো

ইগো হলো ইড ও সুপার ইগো এ দু অবস্থার মাঝে ভারসাম্য সৃষ্টিকারী তৃতীয় একটি অবস্থার নাম। এতদোভয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করে চলাই এর কাজ। ইগোও ইডের ইচ্ছাটা বাস্তবায়ন করে, তবে একটু রয়ে সয়ে। পশুরা নিছক ইড চালিত। এদের মাঝে ইগো সুপার ইগো বলতে কিছু নেই।  তাই পশুরা অহর্ণিশ জৈবিক চাহিদা পূরণেই ব্যস্ত থাকে। নফসে লাওয়ামার সাথে এর সামান্য তুলনা হতে পারে।

ইড বলবে মেয়ে একাকী পথ চলছে। অতএব ওকে রেইপ করো। সুপার ইগো বলবে রেইপ বা ধর্ষণ করা নিতান্তই গর্হিত কাজ। এটা করা যাবে না। ইগো বলবে মেয়েটির সাথে বন্ধুত্ব করো। তোমার আশা আকাক্সক্ষা সবই পূরণ হবে। ইড, ইগো এবং সুপার ইগোর আপেক্ষিক তীব্রতা স্থিতিশীল নয়; বরং পারিপার্শিকতার সাথে পরিবর্তনশীল। সুপার ইগো অসুস্থ হয়ে গেলে তখন সে আর অন্যায় কাজে বাধা দিতে পারে না। তদ্রূপ ইড দুর্বল হয়ে গেলে সে আর অন্যায় কাজে উৎসাহিত করতে পারে না।

৬ বছরের মেয়ে, বোরকাবৃতা মেয়ে কিংবা ৬০ বছরের বৃদ্ধা স্বাভাবিকভাবে যৌনতা সৃষ্টি করে না। কিন্তু শিক্ষা, সঙ্গ ও পরিবেশের কারণে ইড হয়ে উঠেছে প্রচণ্ড রকমের শক্তিধর। অন্যদিকে ইগো ও সুপার ইগো হয়ে পড়ে নিতান্তই দুর্বল।  ফলে ব্যক্তির সর্বাঙ্গ জুড়ে ইডের শক্তিধর পশুত্ব বিরাজ করে। একসময় সে ৬ বছরের মেয়ে, বোরকাবৃতা মেয়ে কিংবা ৬০ বছরের বৃদ্ধার উপরও হামলে পড়ে তার কামনাকে চরিতার্থ করে ছাড়ে।

আমাদের সাহিত্য, নাটক, শিল্পকলা, বিজ্ঞাপন ও সংস্কৃতিগুলো আমাদের ইডকে শক্তিধর করে তুলছে। এ কারণেই ৬ বছরের মেয়ে হতে ৬০ বছরের বৃদ্ধা পর্যন্ত আমাদের ছেলেদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

মেডিকেলীয় ব্যাখ্যায় ধর্ষণ চর্চার কারণ ও প্রতিকার

মেডিকেলীয় টার্মে প্রতিটি রোগের তিনটি ডায়মেনশ বা মাত্রা থাকে। ১। Agen বা রোগের কারণ ২। Host বা যার মধ্যে রোগজীবাণু আক্রমণ করে। ৩। Environment বা যে পরিবেশে রোগের সৃষ্টি হয়।

উদাহরণ স্বরূপ টাইফয়েড রোগের এজেন্ট হচ্ছে সালমনেলা ব্যাকটেরিয়া। হোস্ট হচ্ছে টাইফয়েড রোগী, যিনি ব্যাকটেরিয়া আক্রান্ত পানি বা খাবার গ্রহণ করেছেন। আর এনভাইরনমেন্ট বা পরিবেশ হচ্ছে দুষিত পানি বা দুষিত খাবার। এ এজেন্ট, হোস্ট এবং পরিবেশের মিথস্ক্রিয়ায় রোগের সৃষ্টি হয়।

ধর্ষণ একটি নৈতিক রোগ। এর এজেন্ট হচ্ছে বিকৃত মনস্ক নৈতিকতা বিবর্জিত পুরুষ। হোস্ট হচ্ছে নারী। আর পরিবেশ হচ্ছে বর্তমানের অশ্লীল পরিবেশ।

মেডিকেলীয় পদ্ধতিতে টাইফয়েড নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি পন্থা অবলম্বন করতে হবে। ১। এজেন্ট তথা সালমনেলা ব্যাক্টেরিয়াকে মেরে ফেলার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক খেতে হবে। ২। হোস্টকে কন্ট্রোল করার জন্য দুষিত খাবার গ্রহণ বন্ধ করতে হবে। আর পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য খাদ্যদুষণ বন্ধ করতে হবে।

তদ্রূপ ধর্ষণ বন্ধ করার জন্য ধারাবাহিকভাবে ৩টি পন্থা অবলম্বন করতে হবে। ১। ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং পুরুষের মাঝে নৈতিক শিক্ষা জাগ্রত করতে হবে। এটা হলো এজেন্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা। ২। নারীদের সভ্য ও শালীনভাবে চলাচল করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। এটা হলো হোস্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা। ৩। সিনেমা, নাটক, গান, গল্প, সাহিত্য এবং বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্যরূপে উপস্থাপন করা বন্ধ করতে হবে। এটা হলো পরিবেশ কন্ট্রোল ব্যবস্থা।

আমি টাইফয়েড রোগী। আমি শুধু অ্যান্টিবায়েটিক খাবো আর দুষিত খাবার খেতে থাকবো ও খাবার দুষণ করতে থাকবো আর আমার টাইফয়েড ভালো হয়ে যাবে এটা তো কখনো হবে না। তদ্রূপ ধর্ষণ বন্ধ করতে হলে ধর্ষক তৈরির সকল উপাদান, পথ-পন্থা ও উপকরণ সমূলে উৎপাটন করতে হবে। সেই সাথে ধর্ষণ অপরাধে ইসলামিক দণ্ডবিধি কার্যকর করতে হবে।

ব্যভিচারের জাগতিক দণ্ড বিষয়ে পবিত্র কুরআন হাদীসের ভাষ্য

১।  আল্লাহ তাআলা বলেন, ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী উভয়কে একশ ঘা করে বেত্রাঘাত করো। আল্লাহর বিধান কার্যকরীকরণে তাদের প্রতি দয়া যেন তোমাদেরকে প্রভাবান্বিত না করে, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী হও। মুমিনদের একটি দল যেন এদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। সূরা নূর, আয়াত: ২। 

২। আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, একটি হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহ ও রাসূলকে যে স্বীকার করে তাকে হত্যা করা বৈধ নয়। তবে তিন শ্রেণীর মানুষকে হত্যা করতে হয়। এর মধ্যে প্রথম হলো এমন ব্যক্তি, যে বিবাহ করার পর ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৩৫৫।

৩। বুরাইদা রা. থেকে বর্ণিত হাদীস থেকে জানা যায়, যিনার পর হযরত মায়েয ইবনে মালেক রা. এর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার ব্যাপারে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৫২৭

৪। আযদ বংশের গামেদী গোত্রের এক মহিলাও নিজের ব্যভিচারের কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে এসে স্বীকার করেছিলো। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে গর্ভের শিশু প্রসব হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বললেন এবং সে শিশুটি কিছুটা বড় হওয়ার পর নবীজী প্রস্তরাঘাতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন। সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৫২৭

ব্যভিচারের দণ্ড

ব্যভিচার বস্তুত দু ধরনের। ১। Fornication  বা অবিবাহিত নারী পুরুষের পারস্পরিক স্বতঃপ্রবৃত্ত যৌনমিলন। ২। Adultery বা বিবাহিত নারী পুরুষের পারস্পরিক স্বতঃপ্রবৃত্ত যৌনমিলন। যেটাকে পরকীয়া ঘটিত ব্যভিচার বলা হয়।

প্রথম শ্রেণীর ব্যভিচারের শাস্তি

এ জাতীয় ব্যভিচারে শরীয়া আইনে দুজনকেই ১০০ বেত্রাঘাত করতে হবে। এবং তওবা করতে হবে।

দ্বিতীয় শ্রেণীর ব্যভিচারের শাস্তি

এ শ্রেণীর ব্যভিচারের দুটি অবস্থান হতে পারে। ১। ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী উভয়ই বিবাহিত। ২। একজন বিবাহিত অপরজন অবিবাহিত। অবস্থানগত এ ভিন্নতার কারণে শাস্তি প্রয়োগের মাঝেও ভিন্নতা তৈরি হবে। সুতরাং এ জাতীয় ঘটনায় অবিবাহিতকে ১০০ বেত্রাঘাত করতে হবে। আর বিবাহিতকে প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। সুতরাং দুজনই বিবাহিত হলে দুজনকেই প্রস্তরাঘাতে হত্যা করতে হবে। এ মৃত্যুদণ্ডেও যদি তাদের পাপের পূর্ণ প্রয়াশ্চিত্ত না হয় এবং তওবা না করেই মারা যায় তাহলে এ পাপের জন্য তাদেরকে পরকালীন শাস্তিও ভোগ করতে হবে। আলবাহরুর রায়িক ৫/৩-১১৫

ধর্ষকের শাস্তি

ধর্ষণের চূড়ান্ত রূপ যেহেতু ব্যভিচার তাই ফুকাহায়ে কেরাম ধর্ষকের উপর ব্যভিচারের দণ্ড আরোপের কথা বলেছেন। অর্থাৎ যদি ধর্ষক অবিবাহিত হয় তবে তার দণ্ড একশ বেত্রাঘাত। আর বিবাহিত হলে তার দণ্ড হবে রজম তথা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড। তবে ধর্ষিতার উপর কোনোরূপ দণ্ড প্রয়োগ হবে না। ফিকহের গ্রন্থে এসেছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে ধর্ষণ করে তবে ইসলামী শরীয়া মতে ধর্ষিতার উপর ব্যভিচারের দণ্ড কার্যকর হবে না; ধর্ষকের উপর ব্যভিচারের দণ্ড কার্যকর হবে। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/১৬৪। তবে যদি কোনো পুরুষকে ধর্ষণ বা ব্যভিচার করতে বাধ্য করা হয় তাহলে ব্যভিচারী বা ধর্ষক পুরুষের উপর ব্যভিচারের দণ্ড প্রয়োগ হবে না। তবে তার উপর সদাক আরোপ করা হবে। অর্থাৎ ব্যভিচারিণী বা ধর্ষিতা নারীর বংশগত নারীদের সমমহর তাকে প্রদান করতে হবে। কারণ ব্যভিচারীর উপর থেকে হদ রহিত হয়ে গেলে তার উপর মহর আরোপিত হয়। হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন ৩/১৭২, বাদাইউস সানায়ি’ ৭/৩৪, ১৮০, আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৭/২৯৫, ৩১৪, কিতাবুল ফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ ৫/৯১

সাফিয়া বিনতে  আবু উবাইদ রা. থেকে বর্ণিত, উমর রা. এর এক গোলাম যুদ্ধলব্ধ এক রাষ্ট্রীয় বাদীকে ধর্ষণ করে বাদীর কুমারিত্ব নষ্ট করে দেয়। ফলে উমর রা. ধর্ষণের দণ্ড স্বরূপ গোলামকে পঞ্চাশটি বেত্রাঘাত করেন এবং অর্ধ বৎসরের জন্য নির্বাসনে পাঠিয়ে দেন। সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৯৪৯, ফাতহুল বারী ১২/৩২২

হানাফী মাযহাবসহ অন্যান্য মাযহাবগুলোতে ধর্ষকের শাস্তি ব্যভিচারীর শাস্তির অনুরূপই বলা হয়েছে। তবে মালেকী মাযহাবে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ মালেকী মাযহাবে জোরপূর্বক সম্পদ হরণের মতো জোরপূর্বক ইজ্জত হরণকেও হিরাবা বলে গণ্য করা হয়েছে। আর পবিত্র কুরআনে হিরাবা এর শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা মায়িদা, আয়াত ৩৫। সে হিসেবে ধর্ষকের বিরুদ্ধে বর্তমানে নতুন প্রবর্তিত মৃত্যুদণ্ড আইনও শরীয়তসিদ্ধ বলে গণ্য হতে পারে।

আর ধর্ষিতার ব্যাপারে কথা হলো, সত্যিকারার্থেই যদি নারী ধর্ষিতা হয়ে থাকে তবে তার উপর কোনো ধরণের শাস্তি বা দণ্ড প্রয়োগ হবে না। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের তিনটি জিনিসকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। ১। অসাবধানতাগত ভুল ২। বিস্মৃতিগত ভুল ৩। বাধ্যগত বিষয়। আলমু’জামুল কাবীর লিততাবারানী, হাদীস ১৪৩০। ফিকহের গ্রন্থগুলোতে এসেছে, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারীকে ধর্ষণ করে তবে ইসলামী শরীয়া মতে ধর্ষিতার উপর ব্যভিচারের দণ্ড কার্যকর হবে না; ধর্ষকের উপর ব্যভিচারের দণ্ড কার্যকর হবে। ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/১৬৪,  আলফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু ৭/২৯৪

রজম দণ্ডই নারী মর্যাদার রক্ষাকবচ

রজম বা প্রস্তরাঘাতে মৃত্যুদণ্ড শুধু একজন মানুষেরই মৃত্যু নয়; বরং এর মাধ্যমে সংঘটিতব্য যৌনঘটিত হাজারো অপরাধের মৃত্যু হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, কিসাস তথা হত্যার বিপরীতে হত্যা বিধানের মাঝে তোমাদের জন্য জীবন রয়েছে। সূরা বাকারা, আয়াত ১৭৯। তার মানে কিসাস বিধান অন্যায় হত্যা বন্ধ করে হাজারো জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে। তদ্রূপ রজম বিধান অন্যায় যৌন অপরাধ বন্ধ করে লাখো নারীর ইজ্জতের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে। আলকুরআনের ভাষ্য মতে কেউ কাউকে বিনা কারণে হত্যা করলো মানে সে পৃথিবীর সকল মানুষকেই হত্যা করলো। আর কেউ কারো প্রাণ রক্ষা করলো মানে সে পৃথিবীর সকল মানুষের প্রাণ রক্ষা করলো। সূরা মায়িদা, আয়াত ৩২। সুতরাং যেমন একজন মানুষকে হত্যা করা সকল মানুষকে হত্যা করার নামান্তর তদ্রূপ একজন নারীর ইজ্জত হরণ করা মানের পৃথিবীর সকল নারীর ইজ্জত হরণ করা। সুতরাং একজন নারীর ইজ্জ হরণের দণ্ড কার্যকর করা মানে সকল নারীর ইজ্জত রক্ষার নিশ্চয়তা প্রদান করা। নারীর ইজ্জত রক্ষার জন্যই মূলত রজম দণ্ড বাস্তবায়নের নির্দেশনা এসেছে। নারীর ইজ্জতের মূল্য আল্লাহর কাছে অনেক বেশি। সে ইজ্জত রক্ষায় নারীকেও ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগী হতে হবে তদ্রূপ তদসংশ্লিষ্ট অন্যদেরকেও উদ্যোগ নিতে হবে। নারীকে তার ইজ্জত নষ্ট করার অধিকার আল্লাহ দেন নি। নারী যদি স্বেচ্ছায়ও তার ইজ্জত নষ্ট করার কাজে অগ্রসর হয় তবুও তাকে জালদ বা রজম বিধানের পরিণতি বরণ করতে হবে। যাতে এ পরিণতি দেখে অন্য কোনো নারী আল্লাহ প্রদত্ত ইজ্জত নষ্ট করার দুঃসাহস না দেখাতে পারে।

বাস্তবিক পক্ষে নারীর প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি পরম আন্তিরিকতাপূর্ণ ও মমতাময়। মাতৃত্বের মহান মর্যাদা দিয়ে আল্লাহ তাদেরকে মান সম্মানের ময়ূর সিংহাসনে সমাসীন করেছেন। মা, মেয়ে, বোন ও স্ত্রী হিসেবে তাদের রয়েছে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার স্থান। নারীর যথাযথ মূল্যায়ন ও পরিচর্যায় ইসলামের রয়েছে কালজয়ী নির্দেশনা। ইসলামের শিক্ষা হলো, পুরুষ কায়িক ও মানসিক শ্রম দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে জীবিকা উপার্জন করবে। উপার্জনের ঘাম ঝরানো সুকঠিন দায়িত্ব ইসলাম নারীর কাঁধে চাপিয়ে দেয় নি। ঘর সামলানো ও নিজের ইজ্জতের নিরাপত্তার স্বার্থেই ইসলাম নারীকে ঘরের ভিতরে অবস্থান করতে বলেছে। ইসলামের চির সুন্দর এ পরিবার নীতিকে আজ মুসলিম নারীরা চরমভাবে উপেক্ষা করে চলছে। ফলে তৈরি হচ্ছে ধর্ষণসহ নানা রকম সামাজিক ব্যধি।

তাই ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতা থেকে নিরাপদ থাকতে হলে নারী ও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষকে নির্মোহ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভাবতে হবে। ধর্ষণ প্রবাহের উৎসমূলকে বন্ধ করতে হবে। আল্লাহ আমাদের পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সকল রকমের চরিত্র বিধ্বংসী অনাচার থেকে মুক্ত রাখুন এবং আমাদের সকলকে পবিত্র ও পরিশীলিত জীবন যাপন করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন।
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটি মন্তব্য লিখুনঃ