রোজনামচা

মানুষ কেন ধোঁকা দেয়?

১৮ ডিসেম্বর ২০২৪ ঈসায়ী
আব্বু পাঠাও সার্ভিসে চাকরি করেন। একদিন আব্বুর সাথে এক বেদনা বিধুর ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি বলতে গিয়ে আব্বু বলেন, ‘বছর খানিক আগের কথা। একদিন একটি ভাড়া পাই। যাত্রী এক জায়গায় গিয়ে কিছুক্ষণ থেকে আবার ফিরে আসবে। আমি বললাম, ঠিক আছে, চলুন। লোকটিকে নিয়ে আমি রওয়ানা হলাম। পথে প্রচুর বৃষ্টি শুরু হল। আমার মোবাইলটি সামনের পকেটে ছিল। আমি মোবাইলটি লোকটির কাছে দিয়ে বললাম, আমার ফোনটি আপনার কাছে একটু রাখুন। লোকটি মোবাইল নিজের কাছে রাখল। গন্তব্যে পৌঁছে আমি ফোনটি নিতে ভুলে যাই। লোকটিও কিছু না বলে চলে গেল। লোকটি চলে যাওয়ার পর আমার ফোনের কথা মনে পড়ে। আমি ভাবলাম, লোকটি তো ফিরে আসবে। তখন না হয় নিয়ে নেবো। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম। এ দিকে দু-তিন ঘণ্টা হয়ে গেল। কিন্তু লোকটি ফিরে এলো না। আমি একজন রিক্সাওয়ালার মোবাইল নিয়ে লোকটির কাছে ফোন দিলাম। লোকটি বলল, আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসছি। এরপরও এক ঘণ্টা চলে গেল। কিন্তু লোকটি ফিরে এলো না। কিছুক্ষণ পর আমি আবার ফোন দিলাম। তখন লোকটি বললো, আমি এক্ষুণি চলে আসছি। এ বলে ফোন কেটে দিল। এরপর আমি আবারো ফোন দিলাম। তখন দেখি ফোন বন্ধ। এবার বুঝতে আর বাকি রইল না। আমি হতাশ হয়ে ফিরে এলাম।’ এরপর লোকটি আব্বুর মোবাইল দিয়ে আম্মুর মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে, আপনার স্বামী এক্সিডেন্ট করেছে। দ্রুত এ নাম্বারে টাকা পাঠান। আম্মু সাথে সাথে সে নাম্বারে সাত হাজার টাকা পাঠিয়ে দিলেন। এরপর আমার আম্মু ও ফুফু মীরপুর থানায় গেলেন। থানা থেকে বলা হল, আমরা এ বিষয়ে কিছু করতে পারবো না। তখন আম্মু ও ফুফু থানা থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় আব্বু আম্মুর নাম্বারে ফোন দেন। আম্মু তো অবাক। আব্বু না এক্সিডেন্ট করেছেন! তিনি কী করে ফোন দিলেন? এরপর আব্বু আম্মুকে সব খুলে বললেন। আম্মুও আব্বুকে লোকটির টাকার প্রতারণার কথা বললেন। এ কারণে কাউকে বিশ্বাস করার আগে শতবার ভাবতে হয়। কোনো কাজ না বুঝে কখনো করা উচিত না। আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কাজে সচেতন হওয়ার তাওফীক দান করুন।

পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *