শিশির ভেজা এক শীতের সকাল
২৪ ডিসেম্বর ২০২৩ ঈসায়ী
বাইরে প্রচণ্ড শীত। বরফের মত ঝিরঝিরে ঠাণ্ডা বাতাস পুরো এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। গায়ে বুলিয়ে দিচ্ছে রক্ত হিম করা শীতল পরশ। গাছ-পালা, দালান কোঠা সবই হারিয়ে যাচ্ছে জমাট বাঁধা কুয়াশার আঁধারে। সবুজ ঘাসের ছুঁচাল ডগায় শিশির কণাগুলো সকালের মিষ্টি রোদে ঝলমল করছে। সবুজ গালিচায় কেউ যেন ছড়িয়ে দিয়েছে অসংখ্য মুক্তোর দানা। গাছের পাতা বেয়ে খেঁজুরের রসের মতো টুপটুপ করে ঝরে পড়ছে বিন্দু বিন্দু শিশির। ঝোপ-ঝাড়ের আড়ালে বেড়ে ওঠা মাকড়শার জালগুলোতে কুয়াশা জমে তৈরি হয়েছে আকর্ষণীয় সব কুয়াশাজাল। মাকড়শার সূক্ষ্ম সুতোয় কোনো সুদক্ষ কারিগর যেন অতি যত্নে গেঁথে দিয়েছে রাশি রাশি মুক্তোর দানা। দেখতে বেশ সুন্দর লাগছে! শীতের পোশাক গায়ে জড়িয়ে সারিবদ্ধ গাছ-গাছালির মাঝ দিয়ে অনমনে হাঁটছি আর মুগ্ধ নয়নে অবলোকন করছি শীতের বৈচিত্রময় মনোরম দৃশ্য। মন ভরে উপভোগ করছি শিশির ভেজা একটি শীতের সকাল। আল্লাহ তা‘আলা কত সুন্দর করে সাজিয়েছেন এ পৃথিবী। কী অপরূপ তাঁর সৃষ্টি! কত বৈচিত্রময় তাঁর প্রকৃতি! সুবহানাল্লাহ!! একেক ঋতু একেক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আগমন করে। প্রতিটি ঋতুই যেন তাঁর কুদরতেরই একেকটি ঝলক। প্রতিটি সৃষ্টিই যেন আপন সৌন্দর্য মেলে ধরে তাঁরই পরিচয় প্রকাশ করতে চায়।
তোমারই সুষমা যেন ওই নীলাকাশ,
গোলাপের ঘ্রাণে পাই তোমার সুবাস।
তোমায় খুঁজেছি প্রভু চাঁদের আভায়,
ভোরের মিঠেল রোদে শিশির কণায়।
তোমার সৃষ্টি মাঝে খুঁজিগো তোমায়,
সাজিয়েছো বসুমতী আপন মায়ায়।
কিছুদূর অগ্রসর হয়ে ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি, পশ্চাতে ফেলে আসা ছোট ছোট দালানগুলো ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে ধূসর কুয়াশার ভিড়ে। আল-মদিনা জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের আস্তরহীন লাল ইটের দেয়ালগুলো আবছা আবছা চোখে পড়ছে। দলা পাকানো কুয়াশা যেন নির্মাণাধীন ভবনটাকে আস্ত গিলে ফেলতে চাইছে। অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। ঢং ঢং ঢং— ঘণ্টার আওয়াজ কানে পড়তেই হুশ ফিরলো। আর বিলম্ব করা চলে না। এক্ষুণি ফিরতে হবে। মন চাইছে এ নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে আরো কিছুক্ষণ থাকি। শিশির ভেজা এ সকালটাকে মন ভরে আরো কিছু সময় উপভোগ করি। কিন্তু একটু পরেই দরস শুরু হয়ে যাবে। দ্রুত গতিতে পা চালালাম মা’হাদের নিজস্ব শিক্ষাভবন আল-মদিনা জামে মসজিদ কমপ্লেক্স পানে।
