গরু বর্গা দেওয়ার বিধান

প্রশ্ন : আমাদের গ্রামে গরু বর্গা দেওয়া হয়। আর তা এভাবে যে, বর্গা দেওয়ার পর প্রথম যে বাচ্চা হয় সেটা যাকে গরু বর্গা দেওয়া হয়েছে সে নেয়। পরবর্তীতে গরু যখন গাভীন হয়, তখন মূল মালিককে ফেরৎ দেওয়া হয়। এক আলেমকে বর্গার এ পদ্ধতির কথা বললে তিনি এটাকে নাজায়েয বলেন এবং বলেন যে, এক্ষেত্রে সহীহ পদ্ধতি হলো যখন গরু বর্গা দেওয়া হবে, তখন গরুর বাজার মূল্য নির্ধারণ করা হবে। পরবর্তীতে মেয়াদ শেষ হলে তখনকার বাজার মূল্য যাচাই করে পূর্বের মূল্যের উপর যা বৃদ্ধি পাবে তা তাদের মধ্যে শর্তানুযায়ী আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হবে। প্রশ্ন হলো কোন্ পদ্ধতি সঠিক? যদি কোনোটিই সঠিক না হয়, তাহলে সঠিক পদ্ধতি কী?

উত্তর : হানাফী মাযহাব অনুসারে প্রশ্নে বর্ণিত দু’টি পদ্ধতির কোনো পদ্ধতিতেই বর্গা দেওয়া জায়েয নয়। তবে প্রশ্নে বর্ণিত দু’টি নিয়মে যদি কেউ গরু-ছাগল বর্গা দেয় এবং তাদের মাঝে কোন ঝামেলা না হয়, তাহলে তা নিয়ে বিবাদের দরকার নেই। কারণ এ বর্গা পদ্ধতি আমাদের মাযহাব অনুযায়ী জায়েয না হলেও ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রহ. এর মতে জায়েয আছে। যেহেতু বর্গার উল্লিখিত পদ্ধতি দু’টি গ্রামাঞ্চলে ব্যাপকভাবে প্রচলিত এবং বিষয়টি মু‘আমালা (লেনদেন) সংক্রান্ত তাই হাকীমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলী থানবী রহ. হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী ফাতওয়া দিয়েছেন।
তবে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী কেউ বর্গা পদ্ধতি গ্রহণ করতে চাইলে তার নিয়ম হল-
এক. পশুর মালিক বর্গাগ্রহীতাকে বলবে, আমার গরু/ছাগলটা তুমি (উদাহরণ-স্বরূপ) এক বছর লালন-পালন কর, এর বিনিময়ে তোমাকে এত টাকা দিব। অতঃপর যদি বর্গাদাতা বর্গাগ্রহীতাকে তার সম্মতিক্রমে ঐ টাকা না দিয়ে তার পরিবর্তে গরুর বাছুর বা ছাগল ছানা প্রদান করে তাহলে তা জায়েয হবে। কিন্তু প্রথমেই যদি এই শর্ত করে নেয় যে, এ বছরের বাচ্চা আমার আর পরের বছরের বাচ্চা তোমার, তাহলে তা জায়েয হবে না।
দুই. গরুর মালিক গরু পালনকারীর সঙ্গে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে চুক্তি করবে; গরুতে অংশিদারিত্বের চুক্তি করবে না। অর্থাৎ গরুর পূর্ণ মালিকানা গরুর মালিকেরই থাকবে। গরুর সব ধরণের খরচও তাকে বহন করতে হবে। গরু বিক্রি করা হলে বিক্রিলদ্ধ পূর্ণ টাকা সেই পাবে। এতে গরু পালনকারীর কোনো অংশ থাকবে না। গরু পালনকারী শুধু নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক পাবে।
—সূরা নিসা; আয়াত ২৯, আল-হিদায়া ৪/২২৪-২২৫, আল-বিনায়া ১৪/২০৩, আল-মাবসূত ১২/১৬, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/৩৪৫, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪৮১, ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ২/২১-২২, ফাতাওয়া শামী ৪/৩২৬, শরহুল মাজাল্লাহ ২/৫৪২, উসূলে ইফতা ২৪৪-৪৫, আল-মুগনী ৬/৩৬৫, ফাতাওয়া মাহমূদিয়া ২৬৫/১৯০, ফাতাওয়া দারুল উলূম দেওবন্দ ১/৫৯৫-৫৯৬, আহসানুল ফাতাওয়া ৭/৩০৮-৩০৯, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৩/৩৪২।

পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *