আলাকা (আলাজা) মসজিদ, ফোসা (ফোকা), বসনিয়া
পনের শতকে সুলতান মুহাম্মদ ফাতেহ বসনিয়াকে উসমানী সাম্রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন। প্রায় সাড়ে চার শত বছর বসনিয়া উসমানী সাম্রাজ্যের শাসনাধীন ছিলো। এসময় অনেক খ্রিস্টান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বসনিয়ায় ধীরে ধীরে মুসলমানরা প্রভাবশালী হতে থাকে।
উনিশ শতকের শেষ দিকে একটি যুদ্ধের ফলে বসনিয়া উসমানী সাম্রাজ্য বিচ্ছিন্ন হয়ে অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি রাজ্যের অধীনে চলে যায়। ১৯১৮ সালে বসনিয়াসহ সাতটি ছোট রাষ্ট্র মিলে যুগোস্লাভিয়া গঠিত হয়। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বসনিয়ায় মুসলমানরা একক বৃহত্তম জনগোষ্ঠী হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করতো। এরপরের বছরগুলোতে সার্ব ও ক্রোয়েটরা বসনিয়ায় অভিবাসিত হয়।
যুগোস্লাভিয়া গঠিত হওয়ার পর থেকে স্বাধীনতা লাভের পূর্ব পর্যন্ত বসনিয়া যুগোস্লাভিয়ার সাথেই ছিলো। ১৯৯২ সালে একে একে চারটি যুদ্ধের মাধ্যমে যুগোস্লাভিয়া ভেঙ্গে ছয়টি দেশের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সে মতে ১৯৯২ সনের ১ মার্চ যুগোস্লাভিয়া থেকে স্বাধীনতা লাভ করে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা।
সংখ্যাগরিষ্ঠ বসনিয়ান মুসলমানরা চায় বসনিয়াকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে। সার্ব ও ক্রোশিয়ানরা চায় যথাক্রমে পার্শবর্তী সার্বিয়া ও ক্রোশিয়ার সাথে মিশে যেতে। মুসলমানরা এতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সার্বিয়ার সহায়তায় সার্বগোষ্ঠি নিরস্ত্র মুসলমানদের উপর ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত গণহত্যা চালায়।
১৯৯৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর এক চুক্তিবলে সার্বিয়া সেনা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। একপেশে এ যুদ্ধে লক্ষাধিক মুসলমানের প্রাণহানি ঘটে। এসময় অসংখ্য মসজিদ মাদরাসাকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় শহর ফোসায় অবস্থিত ১৫৪৯ সালে উসমানীয় শাসন আমলে নির্মিত আলাকা মসজিদটিও এ সময়ে সার্ব বাহিনী ডিনামাইট ব্যবহার করে ধ্বংস করে দেয়।
আনন্দের কথা হলো, ধ্বংসপ্রাপ্ত বা বন্ধ করে দেয়া সেসব মসজিদের কিছু কিছু পুনঃনির্মাণ করা হচ্ছে বা খুলে দেয়া হচ্ছে। ঐতিহাসিক আলাকা মসজিদটি সেসব মসজিদের অন্যতম। দীর্ঘ দিন ধ্বংসাবস্থায় থাকার পর ২০১৪ সালে তুরস্কের একটি দাতব্য প্রতিষ্ঠান মসজিদটির পুনঃনির্মাণ শুরু করে। পাঁচ বছর নির্মাণ কাজ চলার পর ২০১৯ সালে মে মাসে মসজিদটিকে সাধারণ মুসলমানদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।