শাম (সিরিয়া ও ফিলিস্তিন) সম্পর্কিত কয়েকটি আয়াত ও হাদীস

বর্তমান বিশ্ববাসীর নজর সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের দিকে নিবদ্ধ। মুসলিম রক্তস্নাত ফিলিস্তিনের কান্নায় যেমন আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে সিরিয়ায় মুসলমানদের বিজয় তেমনি আমাদের হৃদয়ে আশার সঞ্চার করছে। শুধু ইসরাঈল জুড়ে নয় একদিন গোটা বিশ্বে তাউহীদী কালিমার বিজয়ী পতাকা পতপত করে উড়বে ইনশাআল্লাহ। সিরিয়া ও ফিলিস্তিন বৃহৎ শামের অন্তর্ভুক্ত। আর শাম হলো সেই ভূমি যাকে স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা বরকতময় বলেছেন, যে ভূমিতে ইলামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে এবং দাজ্জাল ধ্বংস হবে মর্মে হাদীস শরীফে ঘোষণা এসেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শাম সম্পর্কিত কয়েটি আয়াত ও হাদীস পাঠক সমীপে পেশ করা উপযুক্ত মনে করছি।

আল-কুরআনে শামের ভূমি বরকতময় হওয়ার আলোচনা


এক. মহান রাব্বুল আলামীন একরাতে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মিরাজে গমনকালে প্রথমে বাইতুল মুকাদ্দাস ভ্রমণ করিছিয়েছেন, সূরা বনী ইসরাঈলের প্রথম আয়াতে সে বিবরণ দিয়েছেন এবং বলেছেন আমি মসজিদে আকসার চারিপাশকে বরকতময় করেছি। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
‘পবিত্র সেই সত্তা, যিনি নিজ বান্দাকে রাত্রিকালে মসজিদুল হারাম থেকে মসজিদুল আকসায় ভ্রমণ করিয়েছেন, যার চার পাশকে আমি বরকতময় করেছি, তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য। নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর শ্রোতা এবং সবকিছুর দ্রষ্টা।’ —সূরা বনী ইসরাঈল; আয়াত ১।
দুই. শামের ভূমি যে বরতকময় সে কথা হযরত সুলাইমান আ. এর আলোচনা প্রসঙ্গেও আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন। ইরশাদ করেন,

وَلِسُلَیْمَانَ الرِّیْحَ عَاصِفَةً تَجْرِیْ بِاَمْرِہِ اِلَی الْاَرْضِ الَّتِیْ بَارَکْنَا فِیْہَا

অর্থ : এবং আমি ঝড়ো হাওয়াকে সুলাইমানের বশীভূত করে দিয়েছিলাম, যা তার হুকুমে এমন ভূমির দিকে প্রবাহিত হত, যেখানে আমি বরকত রেখেছি। —সূরা আম্বিয়া; আয়াত ৮১।

তিন. আল্লাহ তা‘আলা বলেন-
واورثنا القوم الذين كانوا يستضعفون مشارق الارض ومغاربها ‌التي ‌باركنا فيها
অর্থ : আর যাদেরকে দুর্বল মনে করা হত, আমি তাদেরকে সেই দেশের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানালাম, যেথায় আমি বরকত নাযিল করেছিলাম। —সূরা আ’রাফ; আয়াত ১৩।
চার.
ونجيناه ولوطا الٰى الارض ‌التي ‌باركنا ‌فيها للعالمين
অর্থ : এবং আমি তাকে (ইবরাহীম) ও লূতকে উদ্ধার করে এমন এক ভূমিতে নিয়ে গেলাম, যেখানে আমি সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য বরকত রেখেছি। —সূরা আম্বিয়া; আয়াত ৭১।
পাঁচ.
وجعلنا بينهم وبين القرى ‌التي ‌باركنا ‌فيها قرى ظاهرة
অর্থ : আমি তাদের এবং যে সকল জনপদে বরকত দান করেছিলাম, তাদের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপিত করেছিলাম, (দূর থেকে) দৃশ্যমান বহু জনপদ। —সূরা সাবা; আয়াত ১৮।
উল্লিখিত সবগুলো আয়াতে বরকতময় ভূমি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শাম বা সিরিয়া ও ফিলিস্তিন।

হাদীসের আলোকে শামের গুরুত্ব ও ফযীলত


এক. প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শামের জন্য বরকতের দু‘আ করেছেন-

عن ابن عمر قال: ذكر النبي صلى الله عليه وسلم: اللهم بارك لنا في شأمنا، اللهم بارك لنا في يمننا. قالوا: يا رسول الله، وفي نجدنا؟ قال: اللهم بارك لنا في شأمنا، اللهم بارك لنا في يمننا. قالوا: يا رسول الله، وفي نجدنا؟ فأظنه قال في الثالثة: هناك الزلازل والفتن، وبها يطلع قرن الشيطان.

অর্থ : ইবনে উমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আলোচনা করছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের শামে বরকত দাও। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের ইয়ামানে বরকত দাও। লোকেরা বলল, আমাদের নজদেও। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের শামে বরকত দাও। হে আল্লাহ! আমাদের জন্য আমাদের ইয়ামানে বরকত দাও। লোকেরা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের নজদেও। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তৃতীয়বারে তিনি বললেন, সেখানে তো কেবল ভূমিকস্প আর ফিতনা। আর তথা হতে শয়তানের শিং উদিত হবে। —সহীহ বুখারী; হদীস ৭০৯৪।

দুই. ফিতনার সময় ঈমান থাকবে শামে-

عن أبي الدرداء قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: بينا أنا نائم إذ رأيت ‌عمود ‌الكتاب احتمل من تحت رأسي، فظننت أنه مذهوب به، فأتبعته بصري، فعمد به إلى الشام، ألا وإن الإيمان حين تقع الفتن بالشام

অর্থ : হযরত আবূ দারদা রাযি. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একদা আমি ঘুমন্ত ছিলাম, দেখলাম আমার মাথার নিচ থেকে কুরআনের স্তম্ভ তুলে নেওয়া হল। আমি ধারণা করেছি যে, তা আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হবে। অতঃপর আমি তাকিয়ে দেখলাম যে, তা শামের দিকে নিয়ে যাওয়া হল। জেনে রেখো, যখন ফিতনা সংঘটিত হবে, তখন ঈমান থাকবে শামে। —মুসনাদে আহমাদ; হাদীস ২১৬৩০।
তিন. ফেরেশতাগণ শামের উপর ডানা মেলে রাখেন-

عن زيد بن ثابت، قال: كنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم نؤلف القرآن من الرقاع فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: طوبى للشام، فقلنا: لأي ذلك يا رسول الله؟ قال: لأن ملائكة الرحمن باسطة أجنحتها عليها

অর্থ : যায়িদ ইবনে সাবিত রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ছিলাম এবং বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন খণ্ড থেকে কুরআন সংকলিত করছিলাম। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, মুবারকবাদ ও কল্যাণ শামের জন্য। আমরা বললাম, তা কেন হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন, কারণ দয়াময় আল্লাহর ফিরিশতাগণ এর উপর তাঁদের ডানা মেলে রাখেন। —সুনানে তিরমিযী; হাদীস ৩৯৫৪।
চার. হাযারামওত থেকে যখন আগুন বের হবে তখন শাম অঞ্চলকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ-

سالم ابن عبد الله عن أبيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ستخرج نار من حضرموت أو من نحو بحر حضرموت قبل يوم القيامة تحشر الناس قالوا: يا رسول الله، فما تأمرنا؟ قال عليكم بالشام وفي الباب عن حذيفة بن أسيد، وأنس، وأبي هريرة، وأبي ذر وهذا حديث حسن صحيح غريب من حديث ابن عمر

অর্থ : সালিম ইবনে আব্দুল্লাহ তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ রাযি. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিয়ামতের পূর্বে হাযরামাওত কিংবা হাযরামাওতের সমুদ্রের দিক থেকে অবশ্যই একটি আগুন বের হবে এবং লোকদের একত্রিত করবে। সাহাবীগণ বললেন, তখন কি করার নির্দেশ দেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেন, তখন তোমরা শাম অঞ্চলকে দৃঢ়ভাবে ধরে রাখো। —সুনানে তিরমিযী; হাদীস ২২১৭।
পাঁচ. শামে মুমিনদের বিজয় ও মুনাফিকদের পরিণতি-

عن خريم بن فاتكٍ رضي الله عنه؛ أنه سمعَ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: ‌أهلُ ‌الشامِ ‌سوْطُ ‌الله ‌في ‌أرضه، يَنْتقمُ بهم ممنْ يشاءُ مِنْ عبادِه، وحرامٌ على منافِقيهم أنْ يَظْهَروا على مؤْمِنِيهمْ، ولا يموتوا إلا همّاً وغَمّاً

অর্থ : হযরত খুরায়ম ইবন ফাতিক রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, শামের অধিবাসীরা আল্লাহর পৃথিবীতে তাঁর চাবুক। তিনি তাদের মাধ্যমে তাঁর যেসব বান্দাদের থেকে ইচ্ছা প্রতিশোধ নিবেন। তাদের মধ্যে যারা মুনাফিক তাদের জন্য মুমিনদের উপর বিজয়ী হওয়া অসম্ভব। তারা একমাত্র দুঃখ ও চিন্তায় জর্জরিত হয়েই মৃত্যুবরণ করবে। —মুসনাদে আহমাদ; হাদীস ১৬০১০।
ছয়. হযরত ঈসা আ. শামে অবরতরণ করবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন-

عن النواس بن سمعان قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال ذات غداة … فبينما هو كذلك إذ بعث الله المسيح ابن مريم، فينزل عند ‌المنارة ‌البيضاء شرقي دمشق، بين مهرودتين، واضعا كفيه على أجنحة ملكين، إذا طأطأ رأسه قطر، وإذا رفعه تحدر منه جمان كاللؤلؤ، فلا يحل لكافر يجد ريح نفسه إلا مات، ونفسه ينتهي حيث ينتهي طرفه، فيطلبه حتى يدركه بباب لد فيقتله،

অর্থ : নাওয়াস ইবনে সামআন রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা সকালে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করলেন। … এ সময় আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ঈসা আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করবেন। তিনি দুই ফিরিশতার ডানায় ভর করে লালগোলাপী (জাফরানী) রং এর জোড়া পরিহিত অবস্থায় দামেশক নগরীর পূর্ব দিকের শ্বেত মিনারের উপর অবতরণ করবেন। যখন তিনি তার মাথা ঝুঁকাবেন তখন তাঁর মাথা থেকে পানি টপকাতে থাকবে। আর যখন তিনি মাথা উঠাবেন তখন তাঁর মাথা থেকে মুক্তার ন্যায় মুক্তাদানা ঝরতে থাকবে। তিনি যে কোন কাফিরের নিকট যাবেন সে-ই তাঁর শ্বাসে ধ্বংস হয়ে যাবে। তাঁর দৃষ্টি যতদূর পর্যন্ত যাবে তাঁর শ্বাসও ততদূর পর্যন্ত পৌঁছবে। তিনি দাজ্জালকে তালাশ করতে থাকবেন। অবশেষে তাকে বাবে লুদ-এর কাছে পেয়ে যাবেন এবং তাকে হত্যা করবেন। —সহীহ মুসলিম; হাদীস ২৯৪৭।
সাত. দাজ্জাল মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না, শামে তাকে হত্যা করা হবে-

أخبر رجل من الأنصار، عن بعض أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم قال: ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم الدجال، فقال: يأتي سباخ المدينة، وهو محرم عليه أن يدخل نقابها، فتنتفض المدينة بأهلها نفضة أو نفضتين، وهي: الزلزلة، فيخرج إليه منها كل منافق ومنافقة، ثم يولي الدجال قبل الشام، حتى يأتي بعض جبال الشام فيحاصرهم، وبقية المسلمين يومئذ معتصمون بذروة جبل من جبال الشام، فيحاصرهم الدجال نازلا بأصله، حتى إذا طال عليهم البلاء، قال رجل من المسلمين: يا معشر المسلمين، حتى متى أنتم هكذا؟ وعدو الله نازل بأرضكم هكذا، هل أنتم إلا بين إحدى الحسنيين، بين أن يستشهدكم الله أو يظهركم، فيتبايعون على الموت بيعة يعلم الله أنها الصدق من أنفسهم، ثم تأخذهم ظلمة لا يبصر امرؤ فيها كفه، قال: فينزل ابن مريم فيحسر عن أبصارهم، وبين أظهرهم رجل عليه لأمته، يقولون: من أنت يا عبد الله؟ فيقول: أنا عبد الله ورسوله، وروحه وكلمته، عيسى بن مريم، اختاروا بين إحدى ثلاث: بين أن يبعث الله على الدجال وجنوده عذابا من السماء، أو يخسف بهم الأرض، أو يسلط عليهم سلاحكم، ويكف سلاحهم عنكم، فيقولون: هذه يا رسول الله، أشفى لصدورنا ولأنفسنا، فيومئذ ترى اليهودي العظيم الطويل، الأكول الشروب، لا تقل يده سيفه من الرعدة، فيقومون إليهم فيسلطون عليهم،ويذوب الدجال حين يرى ابن مريم كما يذوب الرصاص، حتى يأتيه، أو يدركه عيسى فيقتله.

অর্থ : জনৈক আনসারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাজ্জালের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দাজ্জাল মদীনার সিবাখে উপস্থিত হবে, কিন্তু মদিনার প্রবেশদ্বারে প্রবেশ করা তার জন্য হারাম করা হয়েছে। এরপর মদিনা মদিনাবাসীসহ একবার বা দুইবার প্রকম্পিত হবে। আর তা হলো ভূমিকম্প। অতঃপর মদীনার সমস্ত মুনাফিক পুরুষ ও নারী সেখান থেকে বের হয়ে যাবে। এরপর দাজ্জাল শামের দিকে অগ্রসর হবে এবং শামের কোনো এক পাহাড়ে মুসলমানদের অবরুদ্ধ করবে। সেদিন বাকি মুসলমানরা শামের একটি পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নেবে। দাজ্জাল পাহাড়ের নিচে তাদের ঘেরাও করে রাখবে। যখন দীর্ঘ সময় ধরে মুসলমানরা এই পরীক্ষার মধ্যে থাকবে, তখন তাদের একজন বলবে, হে মুসলমানগণ! তোমরা আর কতদিন এভাবে থাকবে? আল্লাহর শত্রু তোমাদের ভূমিতে এভাবে অবস্থান করছে। তোমাদের তো দুই উত্তম পথ রয়েছে হয়ত তোমরা শহীদ হবে, আর নয় আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের বিজয় দান করবেন। এরপর তারা মৃত্যুর উপর বাইয়াত গ্রহণ করবে। আল্লাহ জানেন, তারা তা আন্তরিকতার সাথে করবে। তখন এমন অন্ধকার আসবে, যে কেউ নিজের হাতও দেখতে পাবে না। সেই সময় ঈসা ইবনে মারিয়াম আ. অবতরণ করবেন এবং তাদের দৃষ্টিশক্তি উন্মুক্ত করবেন। তাদের মধ্যে একজন থাকবে, যার গায়ে যুদ্ধের বর্ম থাকবে। মুসলমানরা তাকে জিজ্ঞাসা করবে, ‘তুমি কে, হে আল্লাহর বান্দা?’ তিনি বলবেন, ‘আমি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর রূহ এবং তাঁর বাক্য আমি ঈসা ইবনে মারিয়াম। তোমরা তিনটির যে কোনো একটি বেছে নাও- (১) আল্লাহ দাজ্জাল এবং তার সেনাদের উপর আকাশ থেকে আযাব প্রেরণ করবেন। (২) তাদেরকে মাটিতে ধ্বসিয়ে দিবেন। (৩) তোমাদের অস্ত্রকে তাদের উপর বিজয়ী করবেন এবং তাদের অস্ত্রকে অকার্যকর করবেন।’
মুসলমানরা বলবে, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জন্য এইটিই শ্রেয়তর, যা আমাদের অন্তরকে শাস্তি দেবে এবং আমাদের তৃপ্তি দেবে।’ এরপর আপনি এক বিশাল দেহী ইহুদিকে দেখতে পাবেন, যে লম্বা, প্রচণ্ড খাদক ও পানকারী। ভয়ে তার হাত থেকে তলোয়ার পড়ে যাবে এবং কাঁপতে থাকবে। মুসলমানরা তাদের দিকে এগিয়ে যাবে এবং তাদেরকে পরাজিত করবে। দাজ্জাল যখন ঈসা আ.-কে দেখবে, তখন সীসার মতো গলে যাবে। ঈসা আ. তাকে ধরবেন এবং হত্যা করবেন।’ —মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক; হাদীস ২০৮৩৪।
আট. শামে ইয়াহুদীদের হত্যা করা হবে-

عن أبي هريرة : أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا تقوم الساعة حتى يقاتل المسلمون اليهود فيقتلهم المسلمون، حتى يختبئ اليهودي من وراء الحجر والشجر فيقول الحجر أو الشجر: يا مسلم يا عبد الله، ‌هذا ‌يهودي خلفي فتعال فاقتله، إلا الغرقد فإنه من شجر اليهود.

অর্থ : হযরত আবূ হুরাইরা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কিয়ামত সংগঠিত হবে না, যতক্ষণ মুসলমানগণ ইয়াহুদী সম্প্রদায়ের সাথে লড়াই না করবে। অতঃপর মুসলমানগণ তাদেরকে হত্যা করবে। ফলে ইয়াহুদীরা পাথরে এবং বৃক্ষের আড়ালে আত্মগোপন করবে। তখন বৃক্ষ বা পাথর বলবে হে মুসলিম! হে আল্লার বান্দা! এই ইয়াহুদী আমার পশ্চাতে আশ্রয় নিয়েছে। এসো, তাকে হাত্যা করো; তবে ‘গারকাদ’ গাছ বলবে না। কারণ তা ইহুদীদের গাছ। —সহীহ মুসলিম; হাদীস ২৯২২।

পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *