সুদের টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণের পর তা থেকে উপকৃত হওয়ার বিধান

আমার বাবা ইন্তিকাল করেছেন। তিনি সুদের ব্যবসা করতেন। তিনি তার এ টাকা দিয়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। প্রশ্ন হলো আমরা কি এ বাড়িতে থাকতে পারবো কিংবা ভাড়া দিলে ঐ টাকা আমাদের জন্য বৈধ হবে?

আল্লাহ তা’আলা সুদকে হারাম করেছেন এবং সুদের কারবারের সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের উপর অভিসম্পাত করেছেন। হারাম পন্থায় উপার্জিত সম্পদ যা মূলত উপার্জান কারীর সম্পদ নয়; বরং তার প্রকৃত মালিক হচ্ছে যার থেকে অন্যায়ভাবে এ টাকা গ্রহণ করা হয়েছে সে। তাই সরাসরি এ সম্পদ থেকে উপার্জনকারী নিজেও উপকৃত হতে পারবে না এবং তার ওয়ারিসরাও পারবে না। কেননা সরাসরি হারাম সম্পদের মধ্যে মীরাস জারি হয় না। তবে উপার্জনকারী ব্যক্তি যদি এ টাকা দিয়ে কোন জিনিস ক্রয় করে বা বাড়ি নির্মাণ করে, তাহলে এতে উপার্জনকারী ও পরবর্তীতে তার ওয়ারিসদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় কিন্তু তা থেকে উপকৃত হওয়া তাদের কারো জন্য বৈধ হয় না, যতক্ষণ না যে পরিমাণ হারাম সম্পদ তাতে ব্যয় করা হয়েছে তা সদকা করা হয়।

আপনার বাবা যদি সুদের টাকা দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করে থাকেন তাহলে তা থেকে আপনারা উপকৃত হতে পারবেন না এবং ভাড়া দিলে ঐ টাকা আপনাদের জন্য বৈধও হবে না, যতক্ষণ না যে পরিমাণ হারাম সম্পদ ঐ বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে তা তার প্রকৃত মালিক বা তার ওয়ারিসদের কাছে ফেরৎ দেওয়া হয়। আর যদি তাদের পরিচয় জানা না থাকে তাহলে গরীব মিসকীনদের সদকা করে দিতে হবে।

-সূরা বাকারা; আয়াত ২৭৫, মুসনাদে আহমাদ; হাদীস ৩৭২৫, আল-হিদায়া ৪/২৯৯, বাদায়িউস সানায়ে’ ৬/৮৬, আন্নাহরুল ফায়েক ৩/৪৪৬, আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৬, মালে হারাম; পৃষ্ঠা ৩৪৪, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া ২৮/৩৭৪, ফাতাওয়া উসমানী ৩/১২০।

পোস্টটি লাইক ও শেয়ার করুন।

একটি মন্তব্য লিখুনঃ

Your email address will not be published. Required fields are marked *